Image description

হামে আক্রান্ত শিশুদের নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতার মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম শিশুরাই হামে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া হাম হওয়া শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, তাদের কান পাকে, অপুষ্টিতে ভোগে, অনেকের মুখের ভিতরের চোয়ালের অংশে ঘা হয়। এসব জটিলতায় মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করে। এদিকে শিশুর স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি এসব ক্ষতির বিষয়ে সরকারের কোনো সতর্কতা বা সচেতনতামূলক  কোনো কর্মসূচিও দেখা যাচ্ছে না। ফলে উদ্বেগটাও বাড়ছে।

জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোগবিষয়ক বিস্তৃত বর্ণনায় হাম সম্পর্কে বিশদ বলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- হাম আক্রান্ত হলে দৃষ্টি ক্ষীণ হতে পারে, তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, কানে সংক্রমণ            হয়, নিউমোনিয়াসহ তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে, এনকেফালাইটিস দেখা দেওয়ার ফলে মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। এতে মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাছাড়া হাম আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’ কমে যায়। ফলে চোখ শুকিয়ে গিয়ে চোখের ক্ষতিও হয়। 

অভিযোগ আছে, বর্তমানে চট্টগ্রমে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা, আক্রান্ত শিশুর শারীরিক পরিস্থিতি কী- এসব তথ্য বিস্তারিত জানানো হচ্ছে না। কেবল প্রতিদিনের হামের প্রতিবেদনে হামের উপসর্গ নিয়ে কতজন হাসপাতালে ভর্তি, কতজন বাড়ি ফিরেছে এবং কতজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তার বর্ণনা দিচ্ছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, হাম আক্রান্ত হলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে নিউমোনিয়া, কাশি, ডায়রিয়া ও মারাত্মক অপুষ্টি দেখা দেয়। এসব সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতাও তৈরি করে। এসব জটিলতা দেখা দিলে সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।  

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মিশু তালুকদার বলেন, হাম আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরের ইমিউনিটি কমে যাওয়ায় বারবার ইনফেকশন হয়ে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া হতে পারে। সঙ্গে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমেও বারবার নিউমোনিয়া ও ক্রনিক লাংক ডিজিজ হতে পারে। আর ব্রেইনে প্রদাহ বা একিউট এনকেফালাইটিস, অপুষ্টিজনিত সমস্যা ও ওজন হ্রাস পেতে পারে। কানে ইনফেকশন বা চোখের সমস্যা হতে পারে। অথবা হার্টের একটা বিরল রোগ মাইওকারহিটস হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এ ছাড়া ভিটামিন-এ এর স্বল্পতার কারণে রাতকানা রোগ দেখা দেয়। যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, শরীরে ভিটামিন-এ এর ঘাটতি আছে তারা হামে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতির অবনতি হয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীও হয়ে যায়। আবার অনেক শিশুর এক ধরনের মৃগীরোগ দেখা দেয়। খিঁচুনি হয়। গর্ভধারণ অবস্থায় হামে আক্রান্ত হলে তা মায়ের জন্য বিপজ্জনকও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপরিণত সন্তান প্রসব এবং সন্তানের ওজন কম হয়।

চট্টগ্রামে হাম শনাক্ত ৯০ জনের : সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে গতকাল পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয় ৯০ জনের। হাম সন্দেহে গতকাল ভর্তি হয় ৩৯ জন শিশু এবং সন্দেহজনকভাবে মোট ভর্তি সংখ্যা ৮৬৮ জন। ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৪৩ জন। ৭৩১ জন শিশুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।