Image description

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন আহসান উল্লাহ নয়ন (২২) নামের এক ছাত্রদলকর্মী।

রোববার (৩ মে) আহসান উল্লাহ নয়নের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করছেন। আবার অনেকে ডাউনলোড করে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করছেন।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা নৈরাশ ছিলাম, এখনো নৈরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পর লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন সংগ্রাম হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয় নাই।’

আহসান উল্লাহ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

শনিবার (২ মে) রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এরপরই রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ফেসবুক লাইভে করেন আহসান উল্লাহ (নয়ন)। এ সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন।

ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়া যায়েন। আওয়ামী লীগের সাথে লক্ষ লক্ষ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিছেন। আর আমরা জীবন-যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেন নাই, আপনাদের এই বিচার এই প্রেক্ষাপট আজ থেকে ছেড়ে দিলাম। ছাত্রদল করতে যে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলছি, ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছাইড়া এই স্বৈরাচার পতন করলাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কি চাইতেছেন? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোন কারণে রাখলেন না।’

বক্তব্য জানতে চাইলে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ‘২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। আমরা দুজন টিকেছিলাম। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনে এলাকায় আমার ছাত্রদলের পোস্টার দেখানো হলে ১৩ দিনের মাথায় আমাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়। ছাত্রদল করার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবুও ছাত্রদল থেকে সরে যাইনি। তবুও আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুকন উজ জামান রুকন বলেন, ‘আহসান উল্লাহ নয়ন ছাত্রদলের একজন ত্যাগী কর্মী। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হতো।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। যারা সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের প্রত্যেককে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আহসান উল্লাহ নয়ন গত এক বছরে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে থাকেনি এবং ব্যক্তিগতভাবেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। ফলে আমরা ধরে নিয়েছিলাম সে হয়তো ছাত্রদলের রাজনীতি আর করছে না। ফলে তাকে অবমূল্যায়িত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততা নিয়ে ঢালাওভাবে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে সবাইকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি।’