বগুড়া সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে শাস্তি হিসেবে স্যান্ডেল দিয়ে বানানো মালা পরিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঘুরানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা আমগাছ থেকে গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কয়েকজন শিক্ষার্থী কিছু আম পেড়ে খায়। এ ঘটনায় পরদিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা বেগম ওই তিন শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রত্যেককে বেত্রাঘাত করেন এবং পরে পায়ের স্যান্ডেল খুলে গলায় মালার মতো পরিয়ে ‘আমচোর’ লিখে শ্রেণিকক্ষগুলোতে ঘুরিয়ে দেখান।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে গতকাল শনিবার (২ মে) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষিকা তার আচরণের জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চান।
তবে ক্ষমা প্রার্থনার পরও ঘটনাটি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারা এ ধরনের আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ঘটনাটি জানার পরই তারা প্রধান শিক্ষিকাকে এমন আচরণ না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আরেক শিক্ষক বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানানো হয়েছিল এবং পরে প্রধান শিক্ষিকাও নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রথমে তাদের বেত্রাঘাত করা হয়, এরপর স্যান্ডেল দিয়ে মালা বানিয়ে গলায় পরিয়ে শ্রেণিকক্ষগুলোতে ঘোরানো হয়।
এ বিষয়ে বুজুর্গধামা এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, শিশুদের শাসন করা যেতে পারে, তবে এ ধরনের অপমানজনক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর বলেন, শিশুরা ভুল করে আম পাড়তেই পারে। এর জন্য এ ধরনের শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।