ফেনীর পরশুরামে প্রতিবন্ধী সন্তানের ভুলে ভারতীয় সীমান্তে চলে যাওয়া উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন দুটি গাভি ফিরে পেতে বিলাপ করছেন এক অসহায় বিধবা নারী। গাভি দুটি হারিয়ে ১০ দিন ধরে মানসিক চাপে ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের নুরের নেছা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় স্বামী আবু তাহেরকে হারান নুরের নেছা। তার বড় ছেলে ফজলুল করিম ছাড়া বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। সহায়-সম্বলহীন এই নারীর আয়ের একমাত্র উৎস ছিল দুটি গাভি।
গত ২২ এপ্রিল সকালে তার প্রতিবন্ধী ছেলে নজরুল ইসলাম গরুগুলোকে বাড়ির পাশে আশরাফপুর বড় কবরস্থান-সংলগ্ন এলাকায় ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান। ওই স্থানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কাটা থাকায় গরুগুলো অসতর্কতাবশত ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। গরুগুলো হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নুরের নেছা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। আমি থানা কিংবা পথঘাট কিছুই চিনি না। এই গরুগুলোই ছিল আমাদের বাঁচার শেষ সম্বল। আমি যেভাবেই হোক আমার গরুগুলো ফেরত চাই। কয়েক দিন খোঁজাখুঁজির পর ভারতীয় লোক মারফত জানতে পারি, গরুগুলো বর্তমানে ভারতের রাজনগর থানায় রয়েছে। আমি গরুগুলো উদ্ধার করার জন্য বিজিবির সহযোগিতা কামনা করছি।
পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরের নেছা পরশুরাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, অসহায় নারীর গরু হারানোর বিষয়টি বিজিবির তরফ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়েছে। গরুগুলো সেখানকার থানায় রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।
গত ১১ এপ্রিল একই ইউনিয়নের মধুগ্রাম সীমান্ত থেকে মীর হোসেন মিনু নামের এক কৃষকের গরু বিএসএফ ধরে নিয়ে গেলেও সেটি আর ফেরত পাওয়া যায়নি। ফলে নুরের নেছার গরুগুলো শেষ পর্যন্ত ফেরত আসবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এই বিষয়ে স্থানীয়রা বিজিবির সহযোগিতা কামনা করেছেন।