সুন্দরবনের দস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’সহ বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দস্যুতা সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছরে করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৪৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৯৬টি গুলি, ২৯৯টি ফাঁকা গুলি এবং দুটি হাতবোমাসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দস্যুদের কয়েকটি আস্তানা শনাক্ত করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ৩৭ জন জেলে, ২ জন পর্যটক ও ১ জন রিসোর্ট মালিকসহ মোট ৪০ জন জিম্মিকে উদ্ধার করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কোস্ট গার্ড। এর অংশ হিসেবে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোববার (৩ মে) কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠীর মধ্যে দস্যুতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ নদী ও খালে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে দস্যুতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।