মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলেও চলতি মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া আগামী জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টি কম হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে ১০ মে পর্যন্ত থেমে থেমে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপমাত্রাও স্বাভাবিক থাকতে পারে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বেড়ে ১৫ মে থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। তা ছয় থেকে সাত দিন চলার পর আবার বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা আমার দেশকে বলেন, এবার আগেভাগেই পশ্চিমা লঘু চাপ সক্রিয় থাকা এবং দক্ষিণা বাযু উপরে দিকে উঠে আসায় জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে বাতাস সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ে বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রচুর মেঘমালা তৈরি হয়েছে। ফলে এবার বর্ষা মৌসুমের আগেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হয়েছে। তবে মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও জুন-জুলাইয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওই সময় মৌসুমী বায়ু কম সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, মে মাসের অন্তত ১০ তারিখ পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপমাত্রাও স্বাভাবিক থাকতে পারে। ১০ তারিখের পর থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে ১৫ মে থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এটা ছয় থেকে সাত দিন চলতে পারে। তবে এ মাসে তাপমাত্রা মোটামুটি সহনীয় থাকতে পারে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো টানা তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই।
সংস্থাটি বলছে, চলতি মে মাসে এক থেকে দুটি লঘুচাপ এবং সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে; তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা খুবই কম। এ মাসে ৫ থেকে ৬টি কালবৈশাখী হতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
মে মাস মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম মাস হলেও আবহাওয়ার অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলছে, এ মাসে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হবে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।
এদিকে মৌসুমের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এপ্রিলে এবার দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এই বৃষ্টির কারণে এপ্রিল মাসে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে কম থেকেছে। মাসে এক দিন মাত্র সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছিল। আর সর্বনিম্ন ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ওই বিভাগে ১৬৯ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছর গরমের মৌসুম শুরুর দিকেই আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছিল, অন্তত এপ্রিলে গরম তত তীব্র হবে না। গত ২২ এপ্রিল শুধু একদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন ২৩ এপ্রিল রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর এটাই চলতি মৌসুমে রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
২০২৪ সালে পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে টানা ২২ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। তবে এবার এপ্রিলে বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহ থেকেছে বিভিন্ন স্থানে। এবং তা টানা থাকেনি। মাসের শুরুতে তাপপ্রবাহ শুরু হলেই দুই দিনের মধ্যেই তা কমে যায়। তারপর বৃষ্টি শুরু হয় প্রথম সপ্তাহেই। দ্বিতীয় সপ্তাহের পর আবার তাপপ্রবাহ শুরু হলে তা টেকে সাত দিনের মতো। তা–ও দেশের সর্বত্র তা থাকেনি। সর্বোচ্চ ২২টি জেলায় তাপপ্রবাহ ছিল। মাসের শেষ দিকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। এখন এই মে মাসের তিন দিন চলে গেলেও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের ভাষায় কোনো এলাকার তাপমাত্রা যদি ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি থাকলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।