কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের ৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে ছাড়েনি পুলিশ। তাকে থানায় আনার পর থেকে ৭ ঘণ্টা ধরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘিরে রেখেছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
রোববার (৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর শাসনগাছা এলাকার বাসা থেকে রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করে পুলিশ। প্রথমে তাকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এবং পরে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তখন পুলিশ জানিয়েছিল- জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তবে আটকের ৮ ঘণ্টা পরেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।
আটক রেজাউল কাইয়ুম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারী নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলে দলে থানার সামনে জড়ো হন। একটি অংশ শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডেও অবরোধ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া রুটের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। পুলিশ বাধ্য হয়ে থানার মূল ফটক বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করে। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেজাউল কাইয়ুম আটক এবং থানার সামনে নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বারবার ফোন করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার দুপুরে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, আটকের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগকারী নেই।