Image description

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীসহ কয়েকজন আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নামে বিতর্কিত মন্তব্য সম্বলিত একাধিক ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বিভ্রান্তির সূত্রপাত

ঘটনার শুরু হয় গত ১ মে। ‘বেঙ্গলি স্টিম’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে সর্বপ্রথম শায়খ আহমাদুল্লাহর ছবি সম্বলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শূকরের মাংস হারাম হওয়ার বিষয়টি দেশীয় গরুর মাংস ব্যবসায়ীদের একটি সাজানো প্রোপাগান্ডা। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে শূকরের মাংস সহজলভ্য হলে ব্যবসায়ীরা চড়া দামে গরুর মাংস বিক্রি করতে পারবে না।

এই একই বক্তব্য পরবর্তীতে মিজানুর রহমান আজহারী, মুফতি আমির হামজা, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নামেও প্রচার করা হয়। এমনকি শফিকুল আলমের নামে ছড়ানো একটি কার্ডে দাবি করা হয়, তিনি নাকি শূকরের মাংস হারাম হওয়ার প্রমাণ চেয়েছেন।

অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল

প্রাথমিক ফটোকার্ডটি প্রচারকারী ‘বেঙ্গলি স্টিম’ পেজটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা নিয়মিত বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে কাল্পনিক ও বিতর্কিত মন্তব্য প্রচার করে থাকে। এটি মূলত একটি ট্রল বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

একইদিন রাতে মুফতি আমির হামজার নামেও অনুরূপ আরেকটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়, যেখানে তার নামে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আপত্তিকর বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। এই পোস্টটিও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পায় এবং অনেকেই বিভ্রান্ত হন।

এছাড়া ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঐক্য গ্রুপ’সহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে একই দাবিকে সামান্য পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে ছড়ানো হয়েছে। শফিকুল আলমের নামেও একটি ফটোকার্ডে বলা হয়, ‘শূকরের মাংস হারাম-এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে হবে’, যা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ায়।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভাইরাল দাবিগুলোর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কেউই এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে মূল ধারার গণমাধ্যমের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে শফিকুল আলমের নামে যে প্রমাণ চাওয়ার দাবি করা হয়েছে, তারও কোনো ভিত্তি কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্রে পাওয়া যায়নি।

সামগ্রিক পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যেই এই সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী শূকরের মাংস স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। একে ব্যবসায়িক ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করা ফটোকার্ডগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।