ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু ভবনের কলা ভবন ক্যাফেট্যারিয়ায় ‘পচা মাংস রান্নার তথ্য সাংবাদিক ও প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ এনে বাবুর্চিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘর ও গেস্ট হাউসের পেছনে এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ার সহকারী বাবুর্চি রুমেন হোসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামের অ্যাটেনডেন্ট কাম জেনারেল হেলপার মো. ইমরান হোসেন করিম এবং টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার সহকারী বাবুর্চি মো. নাজমুল করিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে নাজমুল করিম শাহবাগ থানা ২১নং ওয়ার্ডের কৃষক দলের সভাপতি।
ভুক্তভোগী রুমেন হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, টিএসসির যে জায়গাটাতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না সেখানে আমাকে আসতে বলে নাজমুল ভাই, সেখানে যাওয়ার পরপরই তারা আমাকে মারধর শুরু করে। ইমরান করিম আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে আমাকে ঘুষিও মারে। আমি অনেক চিৎকার করি এবং বাঁচার চেষ্টা করি। আমার চিৎকারে আশেপাশে থেকে লোকজন ছুটে আসে। তখন সেখানে কাঁচের প্লেট ছিল, করিম সেই প্লেট দিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি কোনোভাবে হাত দিয়ে তা ঠেকিয়ে দিই।
ভুক্তভোগী রুমেন আরও বলেন, তারা আমাকে কেন মারছে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, তুই পচা মাংসের খবর কেন দিয়েছিস? এটা বাইরে জানালি কেন? আমি অবাক হয়ে বললাম যে আমি তো এই ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি সকালে এবং বিকালেও অফিসে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ফ্রিজে কিছু মাংস ছিল যা রান্নার জন্য আমি বের করেছিলাম। কিন্তু আমি যখন দেখলাম যে মাংসগুলো পচে গেছে, তখন আমি সেগুলো রান্না না করার সিদ্ধান্ত নিই এবং ফেলে দিই। এটাই ছিল আমার কাজ। কিন্তু তারা মনে করেছে যে আমি এই পচা মাংসের খবর বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।
মারামারি ঘটনাটি পরিকল্পিত উল্লেখ করে ভুক্তভোগী বলেন, তারা আমাকে এমন জায়গায় ডেকে নিয়ে গেছে যেখানে ক্যামেরা নেই যেন তাদের কুকর্মের কোনো প্রমাণ না থাকে। তারা আমাকে মারধর করার পর হুমকিও দিয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইমরান করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ওর (বাবুর্চি রুমেন) সাথে আগে থেকেই ঝামেলা হয়েছে। ও (বাবুর্চি রুমেন) এসেই অ্যাগ্রেসিভ ভাব দেখাইছে, চিল্লাপাল্লা শুরু করছে। ও (বাবুর্চি রুমেন) যদি আমার কলার না ধরতো তাহলে আমি হাত তুলতাম না।
মারামারির সময় পচা মাংসের তথ্য জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে গায়ে হাত তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না! পচা মাংসের কোনো বিষয় না। ও নাজমুল আমাদের বিপক্ষ গ্রুপের রাজনীতি করে। আমরা ওরে বারবার ডাকছি যে আমাদের গ্রুপে আসো আমাদের সাথে থাকো। ও শুনে না। এই নিয়ে তিন চার বছর ধরে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব নিয়ে আমরা ওকে কথা বলার জন্য ডাকি।
তিনি আরও বলেন, পচা মাংসের কথা একবারও হয় নাই। পচা মাংসের ইস্যুটা ও (রুমেন) বানাইছে। ও (রুমেন) টিএসসি অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে পচা মাংসের কথা।
রুমেনকে কল দিয়ে ঘটনা স্থলে আনা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে ‘এটা একদম ভুয়া কথা’ বলে অস্বীকার করলেও মারামারির বিষয়টি স্বীকার করে নাজমুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দুইজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। যখন করিম ভাইয়ের মোবাইল নিয়ে ভেঙে ফেলছে করিম ভাইও তিন-চারটা থাপ্পড় মারছে।
ফোন দিয়ে ভুক্তভোগী রুমেন হোসেনকে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করিমের ( ইমরান হোসেন) সাথে একটা বিষয় ( রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব) নিয়া ওর (রুমেন) সাথে ঝামেলা হয়েছে। করিম ভাইয়ের মোবাইলে টাকা ছিল না, উনি (ইমরান হোসেন) আমারে ফোন দিতে বলছে। ঐ বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য ফোন দিয়ে আসতে বলেছি।
ভুক্তভোগী রুমেন হোসেনকে নাজমুল করিমের কল দিয়ে ডেকে আনার বিষয়ে মো ইমরান হোসেন (করিম) বলেন, আমি ডাকলে সে আসত না তাই নাজমুলকে দিয়ে তাকে ডেকে এনেছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটা টিএসসির ইস্যু এটা আমার আওতাভুক্ত না। এরা যেহেতু টিএসসির স্টাফ, টিএসসির পরিচালককে অভিযোগ দেয়, উনি উদ্যোগ নেবেন। উনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এই ক্যাফেট্যারিয়াটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাবির টিএসসি। এ বিষয়ে টিএসসির পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা বাশার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কে বলেন, আমার কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।