Image description
সংলাপে নগর সংশ্লিষ্টরা

অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত রাজধানী ঢাকা। ফুটপাথ দখল, বদ্ধ-মৃত খাল, মশা, বস্তিসহ নানা সমস্যায় ঢাকা এখন মৃতপ্রায়। এই মৃতপ্রায় ঢাকাকে বাঁচাতে এখনই উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার গুলশানের হোটেল রেনেসাঁয় ‘ঢাকা কি মৃত নগরী হতে যাচ্ছে? সমাধানে করণীয়’- শীর্ষক এক নগর সংলাপে বক্তারা এই পরামর্শ দেন। সংলাপটি আয়োজন করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম। সংলাপে অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামসহ অন্যরা।

এ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একই রাস্তা যেন বারবার খোঁড়াখুঁড়ি না করা লাগে এজন্য এখন থেকে আমরা কোনো রাস্তার কাজ শুরুর আগে ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস গ্যাসসহ অন্যান্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চিঠি পাঠাবো যেন একবারেই সকল প্রতিষ্ঠানের ইউটিলিটি লাইন স্থাপন করে ফেলা যায়। তিনি আরও বলেন, ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে দেয়া স্থায়ী সমাধান নয়। তাদের পুনর্বাসন না করলে উচ্ছেদ অভিযান করে কোনো লাভ হবে না। 

রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, কড়াইল বস্তিকে কড়াইল বস্তি হিসেবে রেখেই এটার উন্নয়ন করতে হবে। এদেরকে উচ্ছেদ না করে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। সেজন্য আমরা ৬টি পাইলট প্রজেক্ট করছি। সেখানে মোবাইল মার্কেট থাকবে। তাদের কার্ড থাকবে। এখানে ডিএমপি, রাজউক ও সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে এটি করছে। 

তিনি বলেন, এখন ঢাকা শহরে পাঁচ কাঠা জমির ওপর বাড়ি করতে গেলেও সেখানে ছোট করে হলেও একটা এসটিপি করতে হবে। কিন্তু অনেকেই কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিল্ডিং বানাচ্ছেন, আর ৫০ লাখ টাকা দিয়ে একটি এসটিপি করবেন না, আর সেটা দিয়ে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করছেন মানুষের। তাদের বাড়ির ময়লা যদি সরাসরি লেকে বা নদীতে যায়, তবে সেই পানি দূষিত হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্ট করছি এবং অ্যাকশনে যাচ্ছি। গুলশান বা হাতিরঝিলের লেকগুলোকে আমাদের বাঁচাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে পার্কিং স্পেস উদ্ধারে কাজ চলছে। যেসব ভবন পার্কিংয়ের স্থানে অবকাঠামো করে রেখেছেন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এই পার্কিংকে যদি আমরা উদ্ধার করতে পারি, তাহলে যানজট অনেকাংশ কমে যাবে। পাশাপাশি পূর্বাচল প্রকল্পকে সক্রিয় করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট; যেগুলো আবাসিক এলাকায় হয়েছে এগুলোকে আমরা উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছি। আমরা বলি তোমরা কমার্শিয়াল জায়গায় যাও যেখানে তোমাদের সুযোগ আছে অথবা, যদি আমরা আইনে পরিবর্তন এনে আমরা সহজে কিছু জিনিসের সমাধান করতে পারি। 

সংলাপে ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণাধীন থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একই প্রকল্প পাঁচ বছরে শেষ করার কথা থাকলেও সেটি ১২ বছর লেগে যায়।

এতে কোনো কাজ সময়মতো করতে পারছি না। আমরা মেঘনা, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা থেকে পানি আনছি। প্রায় ৫১ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ১৫০ কিলোমিটার করা হবে। বাধ্য হলে বঙ্গোপসাগর থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংলাপে আরও অংশ নেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান, পরিবেশবিদ আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্লানার ধ্রুব আলম প্রমুখ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমনের সঞ্চালনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।