Image description

নজিরবিহীন ঘটনা বটে! এতদিন ক্ষমতাসীন দলে যোগদানের হিড়িকের খবর শোনা যেত। বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর ঘটলো উল্টো ঘটনা। পুরান ঢাকার দলের প্রভাবশালী নেতা ইসহাক সরকার বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে বিরোধী দলের শরিক এনসিপিতে যোগদান করেছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাকিবুল হাসান রানা পদত্যাগ করেন। তারা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ছাড়েন। অথচ বিগত দেড় যুগ বিএনপির জন্য হাজারো জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, ছাত্রদল নেতা শেখ শোভন ও রাকিবুল হাসানের পদত্যাগ ‘ক্ষুদ্র ঘটনা’। ক্ষমতাসীন বিএনপিকে যদি সাগরের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে ইসহাক সরকারের পদত্যাগ-সাগর থেকে এক ফোটা পানি সরে যাওয়া, বিএনপিকে যদি বটবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে যুবদল-ছাত্রদলের পদত্যাগী নেতার একটি ঝড়ে যাওয়া পাতামাত্র। এতে সাগর বা বৃক্ষের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু ১৭ বছর রাজপথে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করা শত শত মামলা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে কাটানো নেতাদের দল ক্ষমতায় আসার পর পদত্যাগ করে অন্য দলে চলে যাওয়া ক্ষমতাসীনদের জন্য পজেটিভ বার্তা দেয় না।

 দীর্ঘ ১৮ বছর রাজপথে আন্দোলনের পর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের মেয়াদের দুই মাস পেরুতে না পেরুতে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার ঘটনা ভালো বার্তা নয়। তাহলে কি নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার দুুই মাসের মাথায় জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করেছে? নতুন সরকার কি বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে; নাকি দল আর সরকার একাকার হয়ে যাচ্ছে? জাতীয় সংসদে যেমন এমপি-মন্ত্রীরা বিরোধী দলের হুমকি-ধমকির বিরুদ্ধে কথা না বলে নীরবতা পালন করছেন; তেমনি বিরোধী দলের রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার হুংকার সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় তুললেও ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা নীরব দর্শক!
নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেড নিয়ে যেসব দেশে সরকার গঠন করা হয় সে সব দেশে রাজনৈতিক দলই হলো ক্ষমতায় টিকে থাকার খুঁটি। সরকার যাতে নির্বিঘেœ প্রশাসন পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল ভ্যানগার্ডের মতো কাজ করে। সেখানে একটু ব্যত্যয় ঘটলে বা দলের ভিতরে প্রতিপক্ষের অনুচর (সষের ভিতরে ভূত) ঢুকে গেলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়।

সরকার থেকে দলকে যেমন বিচ্ছিন্ন করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়; তেমনি সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলকে একাকার করাও উচিত নয়। তবে রাজনৈতিক সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলের নেতাদের চিন্তা-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো অপরিহার্য। প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি কোনটা করছে?

এটি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। প্রতিদিন সত্য-মিথ্যা নানান কথা নেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়ায়। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করলে প্রথম ১০০ দিনকে বলা হয় মধুচন্দ্রিমা। এই সময়টি সরকারকে শিখতে-বুঝতে দেয়া হয়। সরকারও ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং পরিকল্পনামতো এগিয়ে যান। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখা গেল বিএনপি সরকার ৬০ দিনের মাথায় সরকারের ‘মূল্যায়ন চিত্র’ তুলে ধরলো। দুই মাস বয়সী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা প্রকাশের কোনো দাবি ছিল না। কিন্তু সরকার আগ বাড়িয়ে দুই মাসের কর্মকা- তুলে ধরে বিরোধী দল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের হাতে বিতর্কের কার্ড তুলে দেয়। সরকার যে ৬০ দিনে ৬০ কর্মসূচি তুলে ধরলো সেখানে দলের কোনো সিনিয়র নেতাকে দেখা যায়নি। তাহলে কি ক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক দল বিএনপির পরিচিত মুখ নেতাদের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে? বিএনপিতে এখনো কয়েকজন সিনিয়র নেতা দলে ‘বটবৃক্ষ’ হয়ে ছায়া দিচ্ছেন। সরকারের মূল্যায়নে তাদের কোথাও দেখা গেল না। তাদের সঙ্গে সরকারের কি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে? বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়ে দিয়ে দল ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথায় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগদান করা ইসহাক সরকার বলেছেন, ‘আমি যে দলের (বিএনপি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, আজ দেখতে পাচ্ছি সেই দল তার গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে গেছে। হয়তো তারা ভুলে গেছে এক হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এ দেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এই দিন পেয়েছি, কথা বলার অধিকার পেয়েছি। যদি দেখি বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবার একইভাবে ফ্যাসিবাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে আমরা আবার রাজপথে নেমে আসব। আপনাদের পতন ঘটাতে আমরা বেশি সময় নেব না। সরকারকে আহ্বান করবো জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দিন। নতুবা আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।’

বিএনপি মাঠের রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ ১৭ বছর নেতাকর্মী-সমর্থকরা জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও রাজপথ ছাড়েনি। দলের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধলাখ মামলা হয়েছিল। পুলিশের গুলির সামনে যে দলের কর্মীরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে; ক্ষমতাসীন সে দলকে তুলনামূলক দুর্বল বিরোধী দল জামায়াতও হুমকি দিচ্ছে। অথচ মন্ত্রী-এমপিরা ক্ষমতার ভোগ-বিলাসে মদমত্ত, আর সিনিয়র নেতারা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার যন্ত্রণা নিয়ে ঘরে বসে আছেন। সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় অগ্রসর হচ্ছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তারা পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি দিচ্ছে এবং ক্রমান্বয়ে জনমত নিজেদের পক্ষে নিতে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের দাবি-দাওয়া প্রচার এবং জনগণকে দাবির পক্ষে টানছে। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সুযোগ বুঝে সরকারকে ধাক্কা দেবে। তখন ভূমিধস বিজয় এবং আড়াইশ এমপির নির্বাচিত সরকারের রক্ষা হবে? মনে রাখতে হবে জনগণই সকল ক্ষমতা উৎস।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পথেই দেশকে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথেÑ পুরোনো স্বৈরাচারের পথে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারো রুখে দাঁড়াবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল নতুন করে কোনো স্বৈরতন্ত্র এ দেশে ফেরত আসতে দেয়া হবে না।’

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য নানান রঙের। বিএনপি কার্যত সমর্থক-নির্ভর রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ কর্মী-নির্ভর আর জামায়াত ক্যাডারভিক্তিক রাজনৈতিক দল। সিপিবিসহ বাম ধারার দল এবং ইসলামী ধারার দলগুলো কর্মী-নির্ভর রাজনৈতিক শক্তি। আওয়ামী লীগ কর্মী-নির্ভর হওয়ায় বিগত দিনগুলোতে বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকিয়ে ‘সরকারকে নিরাপদ’ রাখতে কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় মহড়া দিতেন। সে দৃশ্য রাজপথে দেখা গেছে। জামায়াত ক্যাডারভিত্তিক দল। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব যে নির্দেশনা দেবেন তার ন্যায়-অন্যায় যাচাই-বাছাই না করে অক্ষরে অক্ষরে ক্যাডাররা পালন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করে, তখন কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে এনসিপিকে দেয়া আসনে দাড়িপাল্লার প্রার্থীরা সরে যায়। অথচ বিএনপির প্রার্থীরা শরিকদের ছেড়ে দেয়া আসনে কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। বিএনপি সমর্থক-নির্ভর রাজনৈতিক দল। দলের কোনো কমিটিতে না থাকলেও বিএনপিকে ভালোবেসে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেন। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের পর সমর্থকদের সঙ্গে যেন ক্ষমতাসীন বিএনপির দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে পরিচিত নেতাদের নীরব হয়ে যাওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেয়ায় কর্মী-সমর্থরা ধাক্কা খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটালে রাজপথে ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি বিরোধী দল জামায়াতের আন্দোলন মোকাবিলা বিএনপি সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্বাচনের মাধ্যমে যেসব দেশে সরকার গঠন হয় সে সব দেশের রাজনৈতিক চরিত্র প্রায় অভিন্ন। নির্বাচিত সরকারকে ছায়ার মতো প্রহরা দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সক্রিয় থাকতে হয়। আর সরকারে ‘শর্সের ভিতরে ভূত’ যদি দেশি-বিদেশি এজেন্ড জায়গা করে নেয় হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে পরিণতি ভোগ করতে হয় তা ভেনিজুয়েলা, ইরানের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়। হুগো শ্যাভেজের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে টার্গেট করে। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরো প্রেসিডেন্ট হন। সমাজতন্ত্রী এবং দেশপ্রেমে নিবেদিনপ্রাণ মাদুরো নিবেদিতপ্রাণ নেতার পাশাপাশি কিছু ভাড়াটেকে প্রাসাদের পদ-পদবিতে বসিয়েছিলেন। তারাই মূলত মার্কিন ডলারের বিনিময়ে প্রসাদের তথ্য ফাঁস করে দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অনায়াসে তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

 বিগত দশকে মিসর ও লিবিয়ায় ভিন্ন আঙ্গিকে সেটা দেখা গেছে। পক্ষান্তরে, রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে থাকায় ১৯৮৯ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতার দাবিতে চীনের বেইজিংয়ের তিয়েন আনমেন চত্বরে ছাত্রদের দুনিয়া কাঁপানো আন্দোলনেও চীন সরকারকে কাবু কতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে হিং¯্র ও ঘৃণিত প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরোধী। কিন্তু দল রিপাবলিক্যান পার্টি তার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে থাকায় তিনি মোড়লিপনা করেই চলছেন। ভারতে বিজেপির নরেন্দ্র মোদি সরকার বিরোধীদের প্রচ- চাপের মুখে। কিন্তু আরএসএসের সমর্থন ও বিজেপির শক্ত অবস্থানে তিনি নির্বিঘেœ সরকার পরিচালনা করছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন পদ্ধতির শাসনব্যবস্থার দেশে সরকারের জন্য রাজনৈতিক শক্তি পাশে থাকা জরুরি। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দল বিএনপির গেট্টো যেন আলগা হয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা এবং একে অপরের কাছে অপরিচিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় কর্মী-নির্ভর বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা যেন দূরে সরে যাচ্ছেন। আর সে সুযোগ নিচ্ছে ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াত।

রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দেয়া বিরোধী দলকে মোকাবিলায় দলকে আরো দৃঢ় করতে যখন বহিষ্কৃত ও দল থেকে চলে যাওয়া নেতাদের ফিরিয়ে আনার কথা; তখন সোশ্যাল মিডিয়ার সত্য-মিথ্যা প্রচারণার ওপর ভর করে দলের পরীক্ষিত নেতাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার আগে সত্যতা যাচাই জরুরি। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে গতকালও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত দলীয় সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় বসে বিএনপি ৩১ দফা ভুলে গেছে এবং পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তায় হেঁটে ‘দুর্বল আওয়ামী লীগ’ হওয়ার চেষ্টা করছে। গণভোটের রায় না মানলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। ‘বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হবেন। আওয়ামী লীগ এক সময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনাদের একই দশা হবে।