Image description
হঠাৎ জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই :সিটিটিসি

হঠাৎ জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদর দফতরের জারি করা সতর্কতামূলক চিঠি নিয়ে সারাদেশেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। দেশে জঙ্গি তৎপরতা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমন তথ্য জানানো হয়েছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে।

এমনকি জঙ্গি নিয়ে কাজ করা অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা বলছেন, আতংকিত হওয়ার মত কিছুই নেই। পলাতক জঙ্গি গ্রুপের সদস্যদের বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং এ গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) কেন জঙ্গি নিয়ে চিঠিতে সারাদেশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ নিয়েছেন তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দেশে জঙ্গি উত্থানের এ ধরনের খবরের কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন। শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকারের দু’মাসের মধ্যে এ ধরনের খবর দেশের সাধারন মানুষের মধ্যেও এক ধরনের আতংক তৈরি করবে। যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জঙ্গি সংক্রান্ত এ ধরনের গোপন প্রতিবেদন তৈরি করে সারাদেশের পুলিশের সকল ইউনিটে পাঠানোর নেপথ্যে অন্যকোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা তা সরকারকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি। উগ্রবাদীদের অবাধ বিচরণের বিষয় নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হওয়ার শঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর সতর্কবার্তা জারি করার বিষয়টি নিয়ে সরকারের তদন্ত করা উচিত। আসলেই দেশে কি জঙ্গিবাদ রয়েছে না অন্য কোন উদ্দেশ্যে এমন একটি সর্তকবার্তা জারি করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ ইস্যুটির সাথে আতংকের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও জড়িত। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে যখন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন তখন এমন একটি সংবাদ বিদেশী বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সরকারের উচিত তদন্ত করে সত্য বিষয়টি প্রকাশ করা। আর এটি যদি দেশের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র হয় তা হলেও জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি। উগ্রবাদীদের অবাধ বিচরণের বিষয় নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছিলেন বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হওয়ার শঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদর দফতর সতর্কবার্তা জারি উদ্দেশ্যমূলক কিনা তা তদন্ত করা জরুরী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, বর্তমানে সার্বক্ষণিক জঙ্গিদের বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিরা এক সময় নানা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করেছে। জঙ্গিরা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করেছে এক সময়। আমরা এসব বিষয়েও নজরদারি করছি। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডেও নজরদারি রয়েছে। আমরা মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই এই দেশে আর কখনোই জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থান হবে না।

এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের দেশের মানুষ উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করে না। মানুষ শান্তিপ্রিয়, তারা জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নয়। তবে কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে বা ভেজাল কোনো ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে কিংবা দেশী-বিদেশী চক্রান্তে পড়ে কেউ কেউ বিচ্যুতি হতে পারে এই আশংকা তো থেকেই যায়। সে কারণে এসব বিষয়কে আমরা নজরদারিতে রাখছি, যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের কোনো সৃষ্টি না হতে পারে। দেশে জঙ্গিবাদ বর্তমানে আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করে থাকলে সেই অপরাধের কোনো ছাড় নাই। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস নিয়ে দেশে এ রকম কিছু এখনো দেখি না। কেউ যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে বি-পথে চলে যায় সে জায়গায় আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে। সেটাই আমরা নজরদারি করছি কেউ হঠাৎ করে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে কিনা। পিছনে না যেয়ে আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগোতে চাই।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কাজ করছি। আমরা পুলিশ সদর দফতরের তথ্যটা পেয়েছি এবং সিটিটিসি সাইবার ইন্টেলিজেন্স এটা নিয়ে কাজ করছি। তাহলে দেশে জঙ্গি আছে, নাকি নেই? জানতে চাইলে তিনি একইভাবে বলেন, দেখেন আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আমরা তথ্য পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দিয়ে পুলিশ সদর দফতরের চিঠি : দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কর্মকা- দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা হামলা, ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।