Image description

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (এমপিও) অনাকাক্সিক্ষত দৌরাত্ম্য ও দাপট চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হাসপাতালের ভিতরে তাদের অবস্থান ও প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানির ঘটনায় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালা নজরদারির সুযোগে প্রতিদিন সকাল থেকেই পুরো হাসপাতাল এলাকা প্রতিনিধিদের দখলে চলে যায়। সরেজমিনে মুগদা হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিনিধি ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন (রবি ও বুধবার) দুপুর ২টার পর প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের কথা থাকলেও এখানে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকেই তাদের মহড়া শুরু হয়। রোগী দেখার চলাকালেই অনেক প্রতিনিধি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন, যার ফলে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

প্রেসক্রিপশন নিয়ে হেনস্তা : সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় চিকিৎসক দেখিয়ে রোগী বের হওয়ার পর। কক্ষের বাইরে কিংবা গেটের সামনে ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন প্রতিনিধি একযোগে রোগীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাতের প্রেসক্রিপশনটি একরকম কেড়ে নিয়ে মোবাইলে ছবি তোলার এ প্রতিযোগিতায় অসুস্থ রোগীরা চরম বিব্রতবোধ করেন। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক রোগীরা এই অনাকাক্সিক্ষত ভিড়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

উত্তর মুগদা থেকে আসা ভুক্তভোগী রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে বের হওয়ার পর যদি চার-পাঁচজন মিলে কাগজ কেড়ে নিতে চায়, তখন খুবই বিরক্ত লাগে। এরা কি মানুষ নাকি অন্য কিছু? ডাক্তার কোন ওষুধ লিখল সেটা তাদের দেখার কাজ কেন?

নির্দেশনা শুধু কাগজে-কলমে : হাসপাতালের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের সামনেই প্রতিনিধিরা রোগীদের হয়রানি করছেন, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মচারী ও চিকিৎসকের সঙ্গে সখ্যের কারণে তারা এ সাহস পাচ্ছেন।

জানতে চাইলে মুগদা মেডিকেল হাসপাতালের ডা. উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আসার জন্য আমরা নিদিষ্ট দিন ঠিক করে দিয়েছি। কিন্তু এর বাইরেও তারা রোগীর আত্মীয়স্বজন হিসেবে এবং বিভিন্ন অজুহাতে আসে। আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে আটক করি এবং পরে অঙ্গীকার নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে লোকবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন এবং কেউ প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিতে চাইলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো উচিত।