নতুন সরকারের দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে রবিবার (২৬ এপ্রিল)। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
একনেকে উঠতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ৪টি, কৃষি-পানি-সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুটি এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের রয়েছে ১১টি প্রকল্প।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২৫ তলা অফিস ভবন নির্মাণ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এখন ৪ তলা বাদ দিয়ে ২১ তলা ভবন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের বাধার মুখে কমছে ভবনের উচ্চতা।
একনেকে এ প্রকল্প উপস্থাপনের বিষয়টি ‘আগামীর সময়’কে নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, যখন সচিবালয়ে ২৫ তলা বিল্ডিং তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছিল, তখন এর বিপক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে ২৯ খাতের ব্যয় প্রস্তাব নিয়েও ছিল প্রশ্ন। ওই সময় কমিশন বলেছিল, বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইতোমধ্যে ২০ তলা পর্যন্ত ভবন আছে। এ ভবনের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখতে ২৫ তলার পরিবর্তে ২০ তলা ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। আর প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ৭২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। বর্তমানে ২১ তলা ভবনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়। বর্তমানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সার্বিক সেবামূলক কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় জায়গা সংকট বেড়েছে। কেননা এখানে শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীই নন, প্রতিদিন জনপ্রতিনিধি, বিদেশী প্রতিনিধি, উন্নয়নসহযোগীরা, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা আসেন।
কিন্তু সচিবালয়ে যে অবকাঠামো আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। বর্তমানে সচিবালয়ের অফিস স্পেস রয়েছে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭২ বর্গফুট। এর বাইরে অতিরিক্ত চাহিদা ৬ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুটের। প্রথম প্রস্তাবিত ২১ তলা ভবনটি নির্মাণ হলেও চাহিদা পূরণ হবে প্রায় ২ লাখ বর্গফুট। এ অবস্থায় সচিবালয়ের ১ নং ভবন ভেঙে সেখানেই প্রস্তাবিত নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটির প্রস্তাবে রয়েছে— চারটি বেইজমেন্টে গাড়ি পাকিং এর সুবিধা, সুপরিসর লিফটের সংস্থান, অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা, কার পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমসহ অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা।
একনেকে উঠতে যাওয়া অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো— শহরের মানুষদের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প, কাস্টমস মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড ইনফ্রস্ট্রাকচার প্রজেক্ট এবং চট্টগ্রামে মুসলিম ইনস্টিটিউট সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প। এছাড়া গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ, পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ, চরাঞ্চলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (রিভার), ঢাকা শহরের জরুরি পানি সরবরাহ, পাঁচটি ক্লাইমেট সহনশীল ব্রিজ নির্মাণ এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।
আরও আছে, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুর্নবাসন, মধুখালী হতে কুমারখালী হয়ে মাগুড়া শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আবাসন ভবন নির্মাণ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠকমো উন্নয়ন, বৈরাগীপুল-টুমচর-বাউফল জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন, বরিশাল-ভোলা-লক্ষীপুর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন এবং বরিশাল-লক্ষীপাশা-দুমকী সড়কের রাঙ্গামাটি নদীতে গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প।