Image description

তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে সাধারণ মানুষ ছুটছেন ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে। তবে বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়াম মার্কেটে এসে ক্রেতাদের কপালে দেখা দিচ্ছে চিন্তার ভাঁজ। ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে চার্জার ফ্যানগুলোর চড়া দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি চার্জার ফ্যানের দাম বেড়েছে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

ফ্যান কিনতে আসা শাহীন বলছেন, ‘যে জিনিসের দাম পাঁচ হাজার টাকা, সেই জিনিস আমাদের এখন সাড়ে ৭ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে।’ অন্য আরেকজন বলছেন ‘যেটা আমি অনলাইনে দেখছি আপনার ৯ হাজার ৭০০ টাকা, ওইটা চাইতাছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা।’

ইমন হোসেন কয়েকদিন আগে যে ফ্যানটি দেখেছিলেন ৯ হাজার টাকায়, আজ তার দাম ধরা হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা। ফ্যান কিনতে আসা ক্রেতা বলছিলেন, ‘চারটা ফ্যান নিতে আসছি, আমাদের কাছে দাম চাইছে ৮ হাজার ৫০০টাকা, আমরা ৭ হাজার ৫০০ টাকা বলছি, তাও দিতে চাচ্ছেন না। দামটা তো অনেক বেশি। যে জিনিসের দাম ৫ হাজার টাকা, সেই জিনিস আমাদের এখন ৭ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, তাও পাচ্ছি না। ওরা বলতেছে যে, যতবার ঘুরে আসবো দাম তত বাড়ানো হবে- এরকম ভাবে তারা থ্রেট দিয়ে কথা বলতেছে।’

ঢাকার বাইরে থেকে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে ফ্যান কিনতে আসা আমিনুল বলছেন, ‘চার মাসের বাচ্চা এর জন্য একটা চার্জার ফ্যান নিতে আসছি। আমরা মধ্যবিত্ত মানুষ, তারপরও চেষ্টা করতেছি যাতে ভালোর মধ্যে একটা নিতে পারি।’

তবে বিক্রেতারা বলছেন অন্য কথা। তাদের দাবি, ডলারের দাম বৃদ্ধি আর আমদানি খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। একই সাথে চীনের মুদ্রা ইউয়ানের দর বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সেটির প্রভাব পড়ছে বলেও জানান তারা। তার ভাষ্য, ‘বেচা-বিক্রি এখন খুবই কম। মানুষের হাতে টাকা পয়সা নাই। অর্থবিত্ত সংকট, বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হইতেছে। মানুষে এখন বড় ফ্যান না কিনা (কিনে) অল্পের মধ্যে ছোট ছোট চার্জার ফ্যান কিনতে চেষ্টা করে- এই হলো বিষয়। আবার মনে করেন যে সবদিক দিয়েই তো সমস্যা মানুষের চলতাছে।’

‘গত বছর এই সময় মোটামুটি ভালোই বেচছি। হ্যাঁ, এই বছর ওরকম বেচাকিনি নাই। ব্যবসা বাণিজ্য খুবই সংকটের মধ্যে আছে। এই বছর দাম বেশি হওয়ার কারণ চায়নাতে আরএমবি রেট বাইড়া গেছে। তো ওই হিসাবে তো অনেক খরচ। দাম বাড়ার আরো সম্ভাবনা আছে।’ যোগ করেন ওই বিক্রেতা।

এদিকে সময় যত গড়াবে আর গরম যত বাড়বে চার্জার ফ্যানের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বায়তুল মোকাররমের এক ব্যবসায়ী বলছেন, ‘গত বছর যে দাম বিক্রি করছি ওই দামের থেকে দাম বেশি। বিক্রি হয় না এক টাকাও, দাম বাড়ায় দেয় ১০ টাকা। আমরা মালটা আনি ইম্পোর্টার। গরম তো এখনো পড়ে নাই। আরেকটু লোডশেডিং পড়লে তো মনে করে আরো বাড়বে। চার্জারও বিক্রি হইতাছে, অন্যান্য সিলিং ফ্যানও বিক্রি হইতেছে, স্ট্যান্ড ফ্যান, টেবিল ফ্যান বিক্রি হইতাছে।’

‘আর গরমটা বললে স্ট্যান্ড ফ্যানটা বেশি বিক্রি হয়। অনেক সময় সিলিংফ্যানে গরম কমে না, তখন এটা নেয়। দাম বেশি কারণ জিজ্ঞেস করলে এই যে একটাই উদাহরণ দেয়- যুদ্ধ লাগছে, কিন্তু মালগুলো ইম্পোর্টের হলেও আমাগো কিছুই হয় নাই এখানে।’ যোগ করেন ওই ব্যবসায়ী।