Image description

ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণের একটি উপজেলার বাসিন্দা আবুল খায়ের। বয়স ৭০।  চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত এই প্রবীণ নেতা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর আত্মগোপনে যান। বছরের শেষ দিকে বাড়ি ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। আটকের পর একে একে আটটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে। প্রায় চার মাস কারাভোগের পর ২০২৫ সালে মুক্তি পেলেও এলাকার বাইরে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে আবুল খায়ের সরাসরি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির পক্ষে কাজ করেন।

“বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িতে এসে প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা নির্বাচিত হলে আমাদের সব মামলা তুলে নেওয়া হবে এবং আমরা আগের মতো স্বাভাবিক রাজনীতি করতে পারব,” বলেন তিনি।

সেই প্রতিশ্রুতিতে ভর করে পরিবার ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে বিএনপিকে ভোট দেন আবুল খায়ের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

কিন্তু ক্ষমতায় আসার দুই মাস পার হওয়ার আগেই  বিএনপি সরকার আবুল খায়েরের সেই প্রত্যাশায় আঘাত হানে। গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ পাসের মাধ্যমে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হয়। এতে আপাতত বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ।

“আমাদের আশা ছিল বিএনপি আমাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, আমরা আবার রাজনীতি করতে পারব। সেই আশায় তাদের ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু উল্টো আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো,  এটা কখনোই বিএনপির কাছ থেকে আশা করিনি,” বলেন আবুল খায়ের।

একই হতাশা ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের বরিশালের আরেক কর্মী মো. সুমন। তাঁর দাবি, শুধু তিনি নন — দলের লক্ষ লক্ষ কর্মী এই সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।

“বিএনপি আমাদের সঙ্গে এমন মুনাফেকি করবে এটা আমরা কখনও ভাবিনি।”

শুধু আবুল খায়ের বা মো. সুমনের এই হতাশা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এই প্রতিবেদক ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অন্তত এক ডজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের সবার বক্তব্যে প্রায় একই সুর।

তারা বলছেন, তারা কখনোই ভাবেননি রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন জায়গায় পৌঁছাবে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকতে হবে। 

কুমিল্লার আওয়ামী লীগ কর্মী মাইনুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপিকে বিশ্বাস করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভোট পাওয়ার জন্য তারা আমাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।”

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত আইন বিএনপি পাস করার পর সামাজিক মাধ্যমেও একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা গেছে দলটির কর্মীরা নির্বাচনের আগের বিএনপির দেয়া প্রতিশ্রুতি ‘ভঙ্গ’ করায় হতাশা ব্যক্ত করছেন।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হতাশা প্রতিফলিত হয়েছে আওয়ামী লীগের পলাতক সিনিয়র নেতাদের কণ্ঠেও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়া এক ভিডিওতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে বলতে শোনা যায়, তারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছিলেন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাসে। তবে ভিডিওতে তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি তাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।

তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া তারা চান না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গত ১৩ এপ্রিল একটি অনলাইন টকশোতে বলেন, তারা আশা করেছিলেন বিএনপি এই আইন পাস করবে না। “কিন্তু তারা সেটি পাস করেছে, যা একই ধরনের আচরণ। এটি কখনোই কাম্য ছিল না।”

 

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের ঘোর বিরোধী ছিল বিএনপি


নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, ২৮ জানুয়ারি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন।

“আজ যদি একটি দল নিষিদ্ধ করা হয়, তবে কাল আমার দলও নিষিদ্ধ হবে না তার নিশ্চয়তা কী?’” টাইমকে বলেন তারেক রহমান

২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান (বর্তমান দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান) সাহেবও বলেছেন যে, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু যদি সেই রাজনৈতিক দল কোনো গণহত্যার সঙ্গে জড়িত হয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য দায়ী হয়, তাহলে নিশ্চয়ই তাদের শাস্তি পেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একটা রাজনৈতিক দল, আরেকটা রাজনৈতিক দলকে ব্যান করতে যাবো কেন?”

এর আগে, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া বা ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক চর্চাকে দুর্বল করবে।

পরবর্তী সময়েও একই অবস্থান ধরে রাখেন তিনি। 

২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ চাইনি। আমরা না করে দিয়েছি পরিষ্কারভাবে; বলেছি, আমরা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই।”

নির্বাচনের আগের সময়জুড়ে এরকম একাধিকবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রীর অবস্থান

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার হত্যার অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে এ রিট করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া।

শুনানির সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রিটটি সরাসরি খারিজের আবেদন জানান

পরে, গত ১৭ জানুয়ারি প্রকাশিত এক নির্বাচনি পথসভার ভিডিওতে তিনি ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। ভিডিওটি প্রকাশ করে দৈনিক কালের কণ্ঠ।

ভিডিওতে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। “আওয়ামী লীগকে সারাজীবনের জন্য হাইকোর্ট যেন নিষিদ্ধ করে, এই দাবি ছিল।”

তিনি বলেন “আমি তখন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম। আমি দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, যারা এই পিটিশন নিয়ে এসেছেন, তাদের কোনো অধিকার নেই একটি আদর্শকে হত্যা করার।”

নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, “সেদিন আমি আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের প্রচেষ্টা হাইকোর্টে বাধা দিয়েছিলাম। কারণ আমরা আদর্শের রাজনীতি করি। আমরা আদর্শকে হত্যা করে কোনো রাজনীতি করতে চাই না।”

 

আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার পটভূমি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।

২০২৫ সালের মে মাসে ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হলে অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিচারের সুযোগ তৈরি করে। ১২ মে গেজেট জারির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন পরে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।

উল্লেখযোগ্য যে, আওয়ামী লীগ সরকারও একসময় একই ধরনের আইনি কাঠামো ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল।

 

গ্রেফতার কমেনি, রাজনৈতিক মামলার চাপ বাড়ছে

গত ২০ এপ্রিল রাতে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী মোসা. শিল্পী বেগমকে তাঁর ৪৬ দিন বয়সী শিশু সন্তানসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২১ এপ্রিল ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জোনাঈদ তাঁকে শিশুসন্তানসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা উঠলে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় তাঁর জামিন দেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অন্তত ৭৬টি মামলায় ১ হাজার ৮৫০ জনকে নামীয় এবং আরও ২১ হাজারেরও বেশি মানুষকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৪৩৬ জন গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া প্রায় ৬ হাজার মানুষের বড় অংশও এই রাজনৈতিক পরিসরের সঙ্গে যুক্ত বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

একই তিন মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৩৯ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন ছিলেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা বা কর্মী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক নয়, যদিও সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো জনমতের চাপের প্রেক্ষাপটেই এসেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি নতুন নয়,  “একসময় আওয়ামী লীগও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল।”

বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ৮ এপ্রিল বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে বিএনপি জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। “আওয়ামী লীগকে যদি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে দুনিয়ার সব স্বৈরশাসককেই সম্মান করতে হবে।”

আবুল খায়েরের কাছে অবশ্য এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ খুব একটা সান্ত্বনার নয়। ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নিজের দলকে ভোট দেননি, এমন নজির এই প্রথম। প্রতিদানে পেয়েছেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।