Image description

দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর বহু প্রতীক্ষিত মহাপরিকল্পনা এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। রোগীর চাপ বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, ফলে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। বর্তমানে ২ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন ঢামেক হাসপাতালে। শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে, করিডর ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য এটি শেষ ভরসার জায়গা হলেও সীমিত অবকাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে ৪ হাজার বেডের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ নতুনভাবে ৪ হাজার শয্যায় উন্নীত করার একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এতে আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার পরিধি বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সে প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। ফলে ফাইলচাপা পড়ে আছে মহাপরিকল্পনা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী খসড়া নকশা তৈরি করে আমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমরা কিছু মতামত দিয়েছি। কিন্তু এরপর আর অগ্রগতি নেই। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আটকে আছে প্রকল্প।’

জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার শয্যায় উন্নীত করার একটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব জমিতে ঐতিহ্যবাহী ভবন ও স্থান অক্ষুণ্ন রেখে আনুমানিক ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল। হাসপাতালের ১০৮ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, লাইব্রেরি, সেমিনার ও ডরমেটরির জন্য মোট ২৭টি ভবন নির্মাণের কথা ছিল। এর মধ্যে ১৭ তলাবিশিষ্ট ছয়টি হাসপাতাল ভবন এবং আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য ভবন ২০ তলাবিশিষ্ট হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। হাসপাতালে দুটি জরুরি বিভাগ এবং দুটি আউটডোর থাকার কথা ছিল। শুধু হাসপাতালের আশপাশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি চূড়ান্ত বৈঠক বাকি ছিল। সেই বৈঠক হওয়ার আগেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। এরপর নেওয়া হয় ৪ হাজার শয্যার নতুন পরিকল্পনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ঢামেক হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে চিকিৎসার মান ও পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। স্বল্প খরচে চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ঢামেক হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের জন্য এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

নতুন ভবনটি শুরুতে আউটডোর সেবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সেখানে প্রশাসনিক ভবন, ডে-কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য সেবা যুক্ত হতে পারে বলে জানান তিনি। পরিচালক বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো একটি ভবন দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে পুরো হাসপাতালের উন্নয়ন। বাস্তবে এটা শুধু একটি একাডেমিক হাসপাতাল নয়, এটি দেশের সবচেয়ে বড় সার্ভিস হাসপাতাল। দেশের অনেক হাসপাতাল রোগী ফেরত দিলেও ঢাকা মেডিকেল কাউকে ফেরায় না। বর্তমানে হাসপাতালের প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগী ইমারজেন্সি বিভাগে ভর্তি হয়, অথচ এই চাপ ভাগ করে নেওয়ার মতো কার্যকর ব্যবস্থা অন্য হাসপাতালে নেই। এ কারণে বিাকলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে সার্ভিস চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।