Image description
আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সার আমদানিও হুমকির মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে চাইলেও সার আমদানি করা যাচ্ছে না। তাই আগের চেয়ে আরও বেশি পরিমাণ গ্যাস (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি) আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তা দিয়ে মে মাস থেকে দেশের তিন সার কোম্পানি-কাফকো, শাহজালাল এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড (সিইউএফএল) চালু করা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সার কারখানাগুলোকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ওই তিন সার কারখানার জন্য জরুরি ভিত্তিতে মে-জুন মাসে এলএনজির ৪টি কার্গো কেনা হচ্ছে। এজন্য খরচ হবে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল সার কারখানা চালু আছে। গ্যাস সংকটে দেশের বাকি সব সার কারখানা বন্ধ।

জ্বালানি বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মে-জুনে সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হবে। মে-জুনে এলএনজি সরবরাহ আরও ১০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত বাড়াতে চায় পেট্রোবাংলা। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এরফানুল হক যুগান্তরকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মাস থেকে তিনটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হবে। এজন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দৈনিক ৯৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি থেকে বাড়িয়ে ১০৫ কোটি ঘনফুট করা হবে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ। কারণ ওই দুই মাস হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাস। কোনো ধরনের সমস্যা হলে অপেক্ষমাণ জাহাজ থেকে গ্যাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন দৈনিক গ্যাস সরবরাহ হয় ২৬০ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহার হয় ৯৩ কোটি ঘনফুট। শিল্পকারখানায় ১১০ কোটি ঘনফুট ব্যবহার হয়। বাকি গ্যাস বাসাবাড়ি এবং সিএনজিসহ অন্যান্য খাতে যায়।

মে মাস থেকে সার খাতে দৈনিক ২১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের মধ্যে ঘোড়াশালে দৈনিক ৮ কোটি, কাফকোকে ৫ কোটি, শাহজালালকে ৪ কোটি এবং সিইউএফএলকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হবে।

কৃষি এবং শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার আমদানি সহজ হচ্ছে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সারের আমদানি আরও কঠিন হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করা হয়। এখন সেটি কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামও দ্বিগুণের বেশি। তাই রাশিয়া, চীন, তিউনিশিয়া, জর্ডান, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরিয়া আনার চেষ্টা করছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

দেশে প্রতিবছর ২৬ লাখ টন ইউরিয়া সারের দরকার হয়। এর মধ্যে স্থানীয় কারখানায় উৎপাদিত হয় ১০ লাখ টনের মতো। বাকি সার আমদানি করতে হয়। আগামী জুলাই-সেপ্টেম্বরে ইউরিয়া সার লাগবে ৬ লাখ টনের বেশি।

এদিকে বিদ্যুৎ খাতে কিছুটা বাড়িয়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তীব্র গরমে এখনই ১ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামনে আরও গরম পড়বে। তখন বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজারের বেশি। গরমে এ চাহিদা ১৮ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর বাইরে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। কিন্তু সার এবং বিদ্যুতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে শিল্প এবং অন্যান্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা আছে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ঘনফুটের মতো। কিন্তু সরবরাহ দৈনিক ২৬০ কোটির একটু বেশি। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, প্রতিবছর দেশীয় ক্ষেত্রগুলোতে ১০ কোটি ঘনফুটের বেশি উৎপাদন কমছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ছিল ১০ ডলারেরও কম। এখন তা কিনতে হচ্ছে ১৭ ডলার করে। সম্প্রতি সরকার প্রতি ইউনিট ২৮ ডলার দিয়ে একটি কার্গো গ্যাস কিনেছে। এ কারণে পেট্রোবাংলা আগামী জুন পর্যন্ত সরকারের কাছে অতিরিক্ত ১৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে।