ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের সিট দ্রুত বরাদ্দের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে হল প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি জানিয়েছে, সিট বরাদ্দে কোনও ইচ্ছাকৃত বিলম্ব নেই।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে মধুর ক্যান্টিনের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী আশহাব আহমেদ শাহিব বলেন, এটি পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ, কোনও রাজনৈতিক সংগঠন এতে জড়িত নয়। যারা ক্যাম্পাসে এসেও হলে সিট পায়নি, তারা গ্রুপে বিষয়টি শেয়ার করে। সেখান থেকেই সবাই এক হয়ে এই কর্মসূচি শুরু করি। স্বাক্ষরগুলো সংগ্রহ করে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী নাকিবুল ইসলাম নিপুণ বলেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাসে থাকলেও তিনি হলে উঠতে পারেননি। এতে নিয়মিত ক্লাসে ব্যাঘাত ঘটছে, যাতায়াতে সময় নষ্ট হচ্ছে, আর বাইরে থেকে থাকার কারণে খাবারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের একটাই দাবি—২০২৫-২৬ সেশনের সব শিক্ষার্থীর দ্রুত সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে এবং পরবর্তী সেশনের ক্লাস শুরুর আগেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
এদিকে, একই দাবিতে সোমবার দুপুরে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা।
প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ডাকসু নেতারা। অবস্থান কর্মসূচির পর ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারহাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, তিন সপ্তাহ আগে উপাচার্য দ্রুত সিট সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি নেই—কোনও কমিটি গঠন হয়নি, কার্যকর পরিকল্পনাও দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী সিট পাবে না, তাদের জন্য আবাসন ভাতা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের পথে যেতে বাধ্য হবে।
ফারহাদ অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন শিক্ষার্থীদের এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে হলে ‘গণরুম’ ও ‘আদু ভাই’ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না বলেও তিনি জানান।
