Image description

মায়াবী চিত্রল হরিণটিকে তাড়া করেছিল বাঘ। ভয়ার্ত পায়ে ছুটতে শুরু করেছিল প্রাণীটি। নদী পেরিয়ে ওপারে লোকালয়। সেখানে আশ্রয় পেল স্থানীয়দের কাছে।

তারপর নিরাপদে বনে প্রত্যাবর্তন। 

ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামে, যেখান থেকে হরিণটিকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছেন বন বিভাগের কর্মীরা। বাঘের তাড়া করার বিষয়টি ধারণা তাদের। 

খুড়িয়াখালী গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে সুন্দরবন থেকে নদী সাঁতরে ওই গ্রামের জামাল মিরের বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল হরিণটি।

খবর পেয়ে বনবিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের সদস্য (ভিটিআরটি) এবং গ্রামবাসী মিলে হরিণটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। 

উদ্ধারকারীদের ধারণা, বাঘের তাড়া খেয়ে হয়তো হরিণটি লোকালয়ে চলে আসে।

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, ভেজা শরীরে হরিণটি জামাল মিরের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় হরিণটি উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হরিণটি বাঘের তাড়া খেয়ে নদীতে ঝাপ দিয়েছিল। তা নাহলে ইচ্ছাকৃতভাবে এত বড় নদী সাঁতরে হরিণটি লোকালয়ে আসার কথা নয়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. খলিলুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া স্ত্রী হরিণটির ওজন আনুমানিক ২৫ কেজি। হরিণটির বাঘের তাড়া খেয়ে অথবা দলছুট হয়েও লোকালয়ে চলে যেতে পারে। সকাল ১০টার দিকে রেঞ্জ অফিসসংলগ্ন বনে অবমুক্ত করা হয় হরিণটিকে।

এসও খলিলুর আরো বলেন, সুন্দরবনের প্রাণীদের মধ্যে হরিণ তুলনামূলক ভীতু। ওদের সঙ্গে অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে হার্ট অ্যাটাকে  মারা যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে উদ্ধারকারী দলে ওয়াইল্ড টিম এবং ভিটিআরটির প্রশিক্ষিত সদস্যরা থাকায় হরিণটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।