Image description

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আটটি আরব দল ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, যা এই অঞ্চলের ফুটবলের জন্য মাইলফলক। এক বিশ্বকাপে আটটি আরব দলের অংশগ্রহণ নজিরবিহীন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনাল পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য যাত্রাই বলছে, আরব দলগুলো বিশ্বসেরাদের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে। এবার লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, ইতিহাস গড়া। সেমিফাইনালের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বড় কিছু করা।

এই মাইলফলকের আসল গুরুত্ব বুঝতে হলে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ ও ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপে একটিমাত্র আরব দল গোটা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। ২০০২ ও ২০০৬ সালে দুটি করে, আর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে তিনটি আরব দল ছিল। অন্যান্য আসরে সংখ্যাটা ছিল এক বা দুইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তবে রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ দুটি আসরেই চারটি করে আরব দল বিশ্বকাপের টিকিট পায়, যা ছিল বড় সাফল্য। চার বছর পর সংখ্যাটা হয়ে গেছে দ্বিগুণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ৮টি দল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

২০২২ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা মরক্কো স্বপ্নের জাল বুনছে এবারও। ২০২৫ সালে ফিফা আরব কাপ জিতে 'আটলাস লায়ন্স’রা আছে ফর্মের তুঙ্গে। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি পিএসজির তারকা আশরাফ হাকিমি, যিনি গত মৌসুমে পিএসজির ট্রেবল জয়ের অন্যতম নায়ক। এজন্য জিতেছেন আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপে মরক্কোর প্রতিপক্ষ পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল , হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। সেই কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হাকিমিরা।

২০১৮ সালের পর বিশ্বকাপে ফিরছে মিশর। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। মিশরের বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা ছিল মোহাম্মদ সালাহর। জিবুতির বিপক্ষে জোড়া গোল করে হয়েছেন আফ্রিকান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। ক্যারিয়ারে শেষ প্রান্তে এসে এই বিশ্বকাপটি হতে পাএর সালাহর জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। তাঁর কাঁধে চড়ে যেমন দুইবার প্রিমিয়ার লিগ, একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে লিভারপুল তেমনি বিশ্বকাপেও ভালো কিছুর স্বপ্ন মিশরের।

বাছাইপর্বের শুরুতে হোঁচট খেয়ে কোচ রবার্তো মানচিনিকে বিদায় দেওয়ার পর হার্ভে রেনার্ডকে ফিরিয়ে এনে দল গুছিয়ে নেয় সৌদি আরব ।২০২২ বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারানো সৌদিরা এবার সপ্তমবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। গ্রুপে তাদের সামনে স্পেন, উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। তবে বিশ্বকাপের ৫৫ দিন আগে রেনার্ডকে ছাটাঁই করেছে তারা।


২০২৫ সালের ৫ জুন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পায় জর্ডান। এশিয়ান বাছাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পরই দ্বিতীয় স্থানে থেকে উঠে আসা দলটির জন্য শুধু মাঠে নামাটাই হবে ঐতিহাসিক অর্জন। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ,অস্ট্রিয়া এবং আলজেরিয়া।
জর্ডানের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা আরেক আরব দল আলজেরিয়া গত ২টি বিশ্বকাপে বাদ পড়ার পর পঞ্চম বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। ২০১৮-২০২২ সালে আলজেরিয়া টানা ৩৫ ম্যাচ জিতে রেকর্ড করে। ২০১৪ সালে ২য় রাউন্ড থেকে বাদ পড়া আলজেরিয়া এবারো গ্রুপ পর্ব পেরোনোর সামর্থ্য রাখে।

ইরাক সবচেয়ে দীর্ঘ বাছাই অভিযান সামলে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে। ২৮ মাসে মোট ২১টি ম্যাচ খেলে মেসোপটেমিয়ার সিংহরা। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা নেয় তারা। ১৯৮৬-এর পর এটি ইরাকের প্রথম বিশ্বকাপ। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ২ বারের চ্যাম্পিয়ন ও গতবারের রানার্স-আপ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে।

২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কাতার এবার বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়ান ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা দলটি এবার নিজেদের আরও প্রমাণ করতে মাঠে নামবে। বিশ্বকাপে তারা পড়েছে কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং বসনিয়ার সঙ্গে।

বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের ৯টিতেই জয় পেয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে তিউনিসিয়া। ১৯৯৮ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই দলটি এবার গ্রুপ পর্ব পার করার স্বপ্ন দেখছে। তাদের গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন।

একসময় বিশ্বকাপে আরবদের উপস্থিতি ছিল সংখ্যার লড়াই, এবার সেটা রূপ নিচ্ছে শক্তির প্রদর্শনীতে। মরক্কোর সেই সেমিফাইনাল হয়তো ছিল শুরু, ইতিহাস লেখা এখনো বাকি।