Image description

জ্বালানি খাতে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসফিল্ড। বিপুল মজুতের সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর চলছে খনন। সদর উপজেলার বুধল এলাকায় আজ রোববার দুপুরে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) এ. কে. এম. মিজানুর রহমান।

 

খনন শেষে এটি পাবে দেশের প্রথম গভীর কূপের স্বীকৃতি। এখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডের যুক্ত হবে বলে আশা বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল জলিল প্রামাণিকের।

 

বর্তমানে উৎপাদনে আছে বিজিএফসিএল পরিচালিত তিতাস গ্যাসফিল্ডের ২২টি কূপ। উত্তোলন হচ্ছে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যা সরবরাহ করা হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। তবে দীর্ঘ সময় গ্যাস তোলায় মজুত ও চাপ উভয়ই কমেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। সংকট মোকাবিলায় নতুন উৎস খুঁজতে থ্রিডি সিসমিক জরিপ প্রকল্প নেয় বিজিএফসিএল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে খনন করা হচ্ছে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ।

 

তিতাস জানাল, ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় নতুন কূপটি খননে সময় লাগবে প্রায় ৭ মাস। কাজটি করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি।

 

গ্যাস নিয়ে সম্ভাবনার কথা শোনালেন আবদুল জলিল। ‘তিতাসসহ বিজিএফসিএল পরিচালিত ফিল্ডগুলো থেকে উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার চলছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন করলে তা হবে জ্বালানি খাতের জন্য মাইলফলক। অনেকটাই কেটে যাবে সংকট,’ যোগ করলেন তিনি।

 

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় আশা জাগাচ্ছে তিতাসের এই গভীর অনুসন্ধান কূপ, জানালেন মিজানুর রহমান।

 

খনন কাজ উদ্বোধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএফসিএল সচিব মোজাহার আলী, প্রকল্প পরিচালক মাহমুদুল নবাব প্রমুখ।