রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ করা যাচ্ছে না। বারবার অভিযানের পরও চালু হচ্ছে। কোনোটি কিছুদিন পরপর ঠিকানা পরিবর্তন করছে। কোনোটি অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় অধরাই থেকে যাচ্ছে। রাত নামলেই এসব লাউঞ্জে শুরু হয় আলো-আঁধারির খেলা। হুক্কার টানে ধোঁয়ার উল্লাসে নেশায় বুঁদ হচ্ছে তরুণ-তরুণী। ক্যাফেগুলোর ভিতরে রঙিন আলো ও শব্দনিরোধক ব্যবস্থা থাকায় বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। বিশ্বস্ত ক্রেতা ছাড়া ভিতরে প্রবেশের অনুমতি মেলে না। বন্ধ রাখা হয় প্রবেশের ফটক।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অতিরিক্ত পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) শওকত ইসলাম বলেন, ‘বেশি লাভের আশায় যত্রতত্র গড়ে উঠছে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ। খবর পেলেই অভিযান চালানো হয়। এর পরও ঠিকানা পরিবর্তন করে চালু করার চেষ্টা করা হয়। তবে আবারও অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।’ পাঁচতারকা হোটেলে সিসা লাউঞ্জের তথ্য মিলছে, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে কি না? জবাবে শওকত ইসলাম বলেন, ‘শুধু পাঁচতারকা হোটেল নয়, কোনোখানেই যাতে সিসা লাউঞ্জ পরিচালিত হতে না পারে সেদিকে আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, রাজধানীর বনানী, গুলশান, খিলক্ষেত ও উত্তরায় চালু রয়েছে কমপক্ষে ২১টি সিসা লাউঞ্জ। বনানীর ১১ নম্বর রোডে এক্সটিক, ই ব্লকের ১২ নম্বর রোডে মারবেলা, ১১ নম্বর রোডে সিগনেচার ও কিউডিএস, ৩২ ডিগ্রি, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে ভোল্ড, ক্যাফে একজেল, বৈরুত, গুলশানে দ্য ক্লাউড অ্যাভিনিউ, উত্তরায় হানসা ও খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২-এ একটি পাঁচতারকা হোটেলে চলছে সিসা লাউঞ্জ। অনেক সিসা বার মালিক নিরাপত্তার জন্য গড়ে তুলেছেন নিজস্ব নেটওয়ার্ক। দরজায় দেহরক্ষী, অতিথির তালিকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগেভাগে সতর্ক করার জন্য লোকও নিয়োজিত রাখা হচ্ছে। এসব সিসা বার বা লাউঞ্জে মিলছে মদ, বিয়ার, ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়ংকর সব মাদকও। ডিএনসির তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত যতগুলো সিসা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে তার একটিতেও ০.২ শতাংশের কম নিকোটিন মেলেনি। অর্থাৎ সিসাও হেরোইন ও ইয়াবার মতো মাদক হিসেবে গণ্য করে সব সংস্থার উচিত হবে অভিযান চালানো।
ঘুরেফিরে রেডজোন বনানী : বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান-২-এ ‘দ্য কোর্টইয়ার্ড বাজার লাউঞ্জ’ নামে একটি সিসা বারে অভিযান চালায় ডিএনসি। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সেবন করার উপকরণ জব্দ করা হয়। আটক করা হয় বারের ম্যানেজারকে। ১৩ এপ্রিল বনানী ই-ব্লকের ১২ নম্বর সড়কের একটি বাসায় ‘অ্যান্টালিয়া’ নামে অবৈধ সিসা বারে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ১৮ বোতল বিদেশি মদ, ৭টি প্লাস্টিক বক্সে অবৈধ সিসা, ১১টি প্রিমিয়াম সিসাস্ট্যান্ড, মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও চাবি জব্দ করা হয়। ডিএনসি সূত্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি যতগুলো সিসা লাউঞ্জে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তার ৯০ শতাংশই বনানীর। এর মধ্যে আল গ্রিসিনো, হাবানা ক্যাফে লাউঞ্জ, ৩৬০ ডিগ্রি, অ্যারাবিয়ান কজি, সেলসিয়াস, ক্লাব ৯২৯৪, হেইজ ও দি সিলভার লাউঞ্জ অন্যতম।