নিজের এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, “আজকে হাসনাতের সংসদে ‘আকুতি’ দেখে মনে পড়ল যে, রামগঞ্জ-লক্ষীপুরের উন্নয়নের জন্য ৪/৫ জন জন উপদেষ্টার কাছে গিয়েও কোনো হেল্প পাইনি। তাদের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করেছি। ডিও লেটার দিয়েছি। সেসব লেখার সময় এখনও আসেনি। এতটুকু বলতে পারি যে, একটি রাজনৈতিক দলের চাপে/ সিদ্ধান্তে উনারা আমার এলাকায়/ আমাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।”
তিনি আরও বলেন, ‘হাসনাত বলছেন এলাকায় মুখ দেখাতে পারবেন না। আর, আমার মুখটা ঢেকে দিয়েছিলেন আমার সহকর্মীগণ! খোদা তাদের মঙ্গল করুন। অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে চলত, এটা নিয়ে কত মিথ্যা আর গুঞ্জন হলো। গুঞ্জন আর নানা হিসাবের বাইরে তো অনেক সত্য আছে!!’
সবশেষে সাবেক এই উপদেষ্টা পোস্টে উল্লেখ করেছেন, “আমি যে মাদ্রাসায় ৮ বছর পড়েছি, যে মাদ্রাসা আমার বাবা লীগ কর্তৃক বেদখল হওয়া পর্যন্ত ১৫ বছর পরিচালনা করেছেন, সে মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়নি। কারণ, আমি একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করেছিলাম। আমি তো ‘অযোগ্য উপদেষ্টাই বটে! আর, সে রাজনৈতিক দল নাকি ক্ষমতায় ছিল না। হাহা পায় যে হাসি!!”
এদিকে, এদিন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমি এলাকায় মুখ দেখাতে পারি না, এলাকার মানুষ আমাকে এখন বেঁধে রাখবে। শুধু চলতি মাসেই ২৩ জন মানুষ এই সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো সড়ক নেই যা দুইটা বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করেছে কিন্তু সেই রাস্তার প্রশস্ততা মাত্র ১৮ ফুট। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে যাতায়াত করতে এটিই একমাত্র সড়ক। এই সড়ক দিয়ে ১০ লাখ মানুষের যাতায়াত। রাস্তাটি ছয় লেন হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রশাসনের সঙ্গে রাস্তার বিষয়ে কথা বললে জানা যায়, এখানে একধরনের প্রশাসনিক জটিলতা আছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এখানে কোনো ধরনের কাজ হচ্ছে না জানিয়ে বিষয়টি সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হাসনাত।