Image description

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ডের পর কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ১৫ জন কৃষাণ-কৃষাণির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া একইদিন সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়। পরে টাঙ্গাইল জেলা শহরের পৌর উদ্যোনে বৈশাখী কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন। এরপরে প্রধানমন্ত্রী জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্ন ভোজ করতে সার্কিট হাউজে যান। পরে তিনি সন্তোষে মওলানা ভাসানী যে ঘরটিতে থাকতেন, সেই ঘরটি দেখেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে রাখা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে বলে অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন জুলাই সনদে সই করার জন্য ডেকেছিলেন, সভার প্রথম জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছিল। যে জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, শব্দ এবং লাইন ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করবো। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। সনদ, যেটি বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরা সই করে এসেছে। আমরা দেখছি, এখন যারা বিরোধী দলে আছে। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সই-ই করে নাই। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে চুরি করে সই করলো। প্রথমে জুলাই সনদে কে সই করেছে? বিএনপি সই করেছে। যারা নির্বাচনের পরে গিয়ে সই করলো, কিন্তু জুলাই আন্দোলনে জুলাই সনদের জন্য যারা গলা ফাটায় ফেলে, তাদের তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি, এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তো তোমরা প্রথমে কেন সই করলা না ভাই?’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটু আগে বলেছি, আবারো পরিষ্কার বলছি, বিএনপি যেই জুলাই সনদে সই করেছে, অনুষ্ঠান করে যেই জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল সই করেছে, সেই জুলাই সনদ ইনশাআল্লাহ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনো নড়চড় হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মওলানা ভাসানীর একটি প্রতীক ছিল। বলেন তো তার প্রতীকটা কি ছিল? ধানের শীষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বভার পেলেন, মওলানা ভাসানী দেখলেন যে, ভাসানী সারাটা জীবন দেশের জন্য যেই কষ্টটা করেছেন, কাজ করতে চেয়েছেন, দেশের মানুষের যে কথাগুলো বলতে চেয়েছেন- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই কথাগুলো বলছেন এবং সেই কাজগুলোই করার চেষ্টা করছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেজন্যই যখন নির্বাচনের সময় আসলো, সেই সময় মওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেদিন থেকে মওলানা ভাসানীর সেই ধানের শীষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি, শহীদ জিয়া, পরে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার পরে আপনারা যারা বিএনপি’র নেতাকর্মী সেই ধানের শীষকে জনগণের মাঝে নিয়ে গিয়েছেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপি’র খাল খনন, বিএনপি’র ফ্যামিলি কার্ড, বিএনপি’র কৃষকের কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ এই সকল জনগণের জনকল্যাণ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে; আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। স্বৈরাচারের ভূত কাদের ওপর আবার ফিরে আছর করছে? কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে?’

বগুড়া ও শেরপুরে নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে নির্বাচন, উপনির্বাচন হয়েছে, সেখানে মানুষ শান্তিতে আছে। সেখানে পরিস্থিতি ঠান্ডা। কিন্তু পরিস্থিতি গরম কোথায়? বায়তুল মোকাররমে। যেখানে ঘটনা ঘটলো, সেখানে কোনো খবর নাই। পরিস্থিতি গরম হচ্ছে বায়তুল মোকাররমে। কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, নিশ্চয়ই সেটি আপনাদের অজানা নয়। কাজেই আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’ এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।