Image description
ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগ

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। চলতি এপ্রিল মাস তো বটেই, আগামী দুই মাসেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানান তিনি। বিভিন্ন অভিযানে মোট সাড়ে ৫ লাখ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। বলেন, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না। উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান মজুত পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন যুগ্ম সচিব মনির। তিনি জানান, ৩রা মার্চ থেকে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এ সময় মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া জ্বালানি সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। প্রত্যেকে প্রত্যেকের মতো করে এটার কিছু সংকট নিতে হবে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গতকাল সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি খাত নয়, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও ব্যয় সীমিত করতে হবে। তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বাজার ও অফিস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করার পক্ষেও মত দেন। সরকার জনগণের কল্যাণেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় মানুষ ভালো থাকুক, কাজ করুক, আয় করুক। তাতে ভ্যাট ও কর আদায় বাড়বে, যা আবার জনকল্যাণে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সরকার পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সমপ্রসারণের পরিকল্পনাও করছে। সরকারি ব্যয়সংকোচন নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রীদের জ্বালানি বরাদ্দ কমানোর পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যেমন- উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি ঋণ সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসন ও বিচার বিভাগে জ্বালানি সুবিধা কমানোর বিষয়টি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।

লো-ফিডে ইআরএল চললেও সরবরাহে প্রভাব নেই: বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে লো-ফিডে (ধীরগতিতে) চালু থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মার্চ মাসে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় ইআরএলকে সীমিত সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।