যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। এক্ষেত্রে মূল ভূমিকায় পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। একজন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, অন্যজন পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল চিফ অব স্টাফ অসিম মুনির। যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে বুধবার তেহরান সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবেন বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগামী দুইদিনে তিন দেশ সফর করবেন। গতকাল তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান। সেখান থেকে কাতার হয়ে তুরস্কে যাবেন তিনি। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কার্যকর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২শে এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই তা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির সময় বাড়িয়ে পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী এবং খুব শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। ইরানি বন্দর অবরোধ এবং তেহরানের পাল্টা হুমকির কারণে যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তারপরও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে এবং পক্ষগুলো আলোচনায় ফেরার পথ খুঁজছে। মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এরমধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। গত সপ্তাহান্তে সরাসরি আলোচনায় এসব বিষয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা ভেঙে গেলেও এখন আবার নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ইরানে প্রায় ৩ হাজার, লেবাননে ২১০০-এর বেশি এবং ইসরাইলে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে আরও প্রাণহানি ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশায় বুধবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং দ্রুত আলোচনায় ফেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে চারদিনের সরকারি সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে। সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরব ও কাতারে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন শেহবাজ শরীফ। এদিকে মার্কিন বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেয়াই এই সফরের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর উপযুক্ত সময় নির্ধারণ এবং যুদ্ধবিরতি-সংশ্লিষ্ট কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি তেহরানের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। ইরান যুদ্ধ শেষের দিকে: ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের পথে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাকিস্তানে মুখোমুখি দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে কোনো কোনো মিডিয়া খবর দিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন দু’দিনের মধ্যে এই বৈঠক হবে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে-বাইরে প্রায় সব বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবরোধ দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত আছে। একই সময়ে ইসরাইল ও লেবানন ওয়াশিংটন ডিসিতে বিরল সরাসরি আলোচনায় বসেছে। তবে হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা চলছেই। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার দিকে যেতে পারে। ওদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফরম ট্রুথ সোশ্যালে পোপ লিও’কে উদ্দেশ্য করে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, কেউ কি পোপ লিওকে বলবেন, গত দুই মাসে ইরান কমপক্ষে ৪২,০০০ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে? ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ইজ ব্যাক। দুইদিন আগে পোপ লিওকে অপরাধের ব্যাপারে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ বলে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কারণ পোপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। পোপ লিও পাল্টা বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন। তবে ইরানে ট্রাম্পের দাবি করা ৪২,০০০ মানুষ নিহতের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান সরকার বলছে, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩১১৭। দেশের বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সংখ্যা প্রায় ৭,০০৭ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সোতো বলেছেন, কমপক্ষে ৫,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা ২০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাও জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে- এমন কোনো প্রমাণ নেই। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল আটকে দিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কৌশল হলো জাহাজগুলোকে ইরানের বন্দর থেকে বের হয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর শনাক্ত করে তাদের ঘুরিয়ে দেয়া। তিনি বলেন, শুধু জাহাজের বাধ্যতামূলক ট্র?্যাকিং সিস্টেম নয়, আরও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে জাহাজগুলোর উৎস শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের সঙ্গে যুক্ত ৮টি তেলবাহী জাহাজকে থামিয়ে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে। মার্কিন বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। সব জাহাজই নির্দেশ মেনে চলে এবং কোথাও জোরপূর্বক জাহাজে ওঠার প্রয়োজন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক চাপ- দুইদিকেই সমানভাবে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। এক্ষেত্রে মূল ভূমিকায় পাকিস্তানের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। একজন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, অন্যজন পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল চিফ অব স্টাফ অসিম মুনির। যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে বুধবার তেহরান সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবেন বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগামী দুইদিনে তিন দেশ সফর করবেন। গতকাল তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান। সেখান থেকে কাতার হয়ে তুরস্কে যাবেন তিনি। এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কার্যকর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২শে এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই তা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে, যুদ্ধবিরতির সময় বাড়িয়ে পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী এবং খুব শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। ইরানি বন্দর অবরোধ এবং তেহরানের পাল্টা হুমকির কারণে যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তারপরও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে এবং পক্ষগুলো আলোচনায় ফেরার পথ খুঁজছে। মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এরমধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। গত সপ্তাহান্তে সরাসরি আলোচনায় এসব বিষয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা ভেঙে গেলেও এখন আবার নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ইরানে প্রায় ৩ হাজার, লেবাননে ২১০০-এর বেশি এবং ইসরাইলে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে আরও প্রাণহানি ঘটেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশায় বুধবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং দ্রুত আলোচনায় ফেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে চারদিনের সরকারি সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে।
সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরব ও কাতারে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন শেহবাজ শরীফ। এদিকে মার্কিন বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির। একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেয়াই এই সফরের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর উপযুক্ত সময় নির্ধারণ এবং যুদ্ধবিরতি-সংশ্লিষ্ট কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি তেহরানের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
ইরান যুদ্ধ শেষের দিকে: ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের পথে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাকিস্তানে মুখোমুখি দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে কোনো কোনো মিডিয়া খবর দিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন দু’দিনের মধ্যে এই বৈঠক হবে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে-বাইরে প্রায় সব বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবরোধ দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত আছে। একই সময়ে ইসরাইল ও লেবানন ওয়াশিংটন ডিসিতে বিরল সরাসরি আলোচনায় বসেছে। তবে হিজবুল্লাহ’র বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা চলছেই।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার দিকে যেতে পারে। ওদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফরম ট্রুথ সোশ্যালে পোপ লিও’কে উদ্দেশ্য করে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, কেউ কি পোপ লিওকে বলবেন, গত দুই মাসে ইরান কমপক্ষে ৪২,০০০ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে? ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ইজ ব্যাক। দুইদিন আগে পোপ লিওকে অপরাধের ব্যাপারে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ বলে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কারণ পোপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। পোপ লিও পাল্টা বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন।
তবে ইরানে ট্রাম্পের দাবি করা ৪২,০০০ মানুষ নিহতের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান সরকার বলছে, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩১১৭। দেশের বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সংখ্যা প্রায় ৭,০০৭ বলে উল্লেখ করেছে। ইরান বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সোতো বলেছেন, কমপক্ষে ৫,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা ২০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থাও জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে- এমন কোনো প্রমাণ নেই।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ চলাচল আটকে দিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কৌশল হলো জাহাজগুলোকে ইরানের বন্দর থেকে বের হয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর শনাক্ত করে তাদের ঘুরিয়ে দেয়া। তিনি বলেন, শুধু জাহাজের বাধ্যতামূলক ট্র?্যাকিং সিস্টেম নয়, আরও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে জাহাজগুলোর উৎস শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের সঙ্গে যুক্ত ৮টি তেলবাহী জাহাজকে থামিয়ে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে। মার্কিন বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। সব জাহাজই নির্দেশ মেনে চলে এবং কোথাও জোরপূর্বক জাহাজে ওঠার প্রয়োজন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক চাপ- দুইদিকেই সমানভাবে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।