Image description

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় ২০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদীর অভিযোগ, ঘটনার দিন জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বে দুই শতাধিক মানুষ পীরের আস্তানায় হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখনোপর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের নাম আসায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করেছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উদ্দিন।

তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহমেদসহ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

মামলার অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র দাবি করে বেলাল উদ্দিন বলেন, “ফিলিপনগরের মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো নেতাকর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।

“অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং মুহাম্মদ খাজা আহমেদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে প্রধান আসামি করে মামলা দিয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন। অথচ তারা আসামি হয় নাই।”

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানান জামায়াতের এ নেতা।

মামলার বিষয়ে জানতে খেলাফত মজলিসের নেতা আসাদুজ্জামানের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বর পাওয়া যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পীরের আস্তানায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আসামিরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদ (৩৮), স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি (৪৫), খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান (৩৫) এবং মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শিহাব (৪৫)। বাকিরা অজ্ঞাত পরিচয়।

ওসি আরিফুর রহমান বলেন, শামীম রেজা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে থানায় একটি এজাহার জমা দেন। এতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের অভিযোগে আনা হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব আইডি ও ফেইসবুক পেইজ থেকে পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে হামলার উসকানি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই নানা কারণে একই জাতীয় পোস্টের সঙ্গে মার্চ করে থাকেন।

এ ছাড়া সিসিটিভি ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ।

হত্যা মামলার এজাহারে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নাম আসায় প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

প্রসঙ্গত, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় শত শত লোক হামলা ও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পিটিয়ে ও কুপিয়ে শামীম রেজাকে হত্যা করা হয়। হামলায় আরও তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। তারা চিকিৎসাধীন।

শীর্ষনিউজ