ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঝুলে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি সূত্রগুলো এই উচ্চপর্যায়ের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বর্তমানে ইরান সফর করছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করা।
ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে । ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তান এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বন্দ্ব ও সমস্যাগুলো নিরসনে পাকিস্তান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে বর্তমানেও সক্রিয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও বলবৎ আছে। তবে কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে যা সমাধান করা জরুরি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি একে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘এমন এক সময়ে পাকিস্তান এই মধ্যস্থতা করার এবং আলোচনা আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।