Image description

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পাকা ঘর দেওয়ার কথা বলে ৩৬৫ পরিবারের কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

 

বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌর শহরের উদয়সাগর হাজীপাড়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম বগুড়া সদরের বৃন্দাবন পশ্চিম পাড়ার আকবার আলীর ছেলে।

 

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন পলাশবাড়ী পৌর শহরের উদয়সাগর হাজীপাড়ার বাসিন্দা ও গাইবান্ধা জামিয়া ইসলামিয়া আসমা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মো. আল আমিন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি আট বছর ধরে গাইবান্ধা জামিয়া ইসলামিয়া আসমা মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন বছর আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

 

 

তিন বছরে শহিদুল এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রথম জনপ্রতি মাত্র ৩০০ টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথাসময়ে ২০টি পরিবারকে টিউবওয়েল স্থাপন করে আস্থা তৈরি করেন। এরপর এলাকার দুস্থ-অসহায় মানুষকে পাকা টিনশেড ঘর দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১৫ হাজার করে টাকা নেন।

 

আগের কার্যক্রম ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে ৩৬৫ জন ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা শহিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। পরে কাঠ-খুঁটি কেনার কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকাসহ মোট ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেন অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম।

 

শহিদুল তার নিজ ব্যাংক হিসাব ছাড়াও স্ত্রী এবং সন্তানদের ব্যাংক হিসেবে এসব অর্থ নেন। নির্ধারিত সময়ে ঘর না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেন।

 

এমন অবস্থায় ভুক্তভোগীর পক্ষে আল আমিন ইসলাম বাদী হয়ে শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, ছেলে সালাউদ্দিন ও মেয়ে সুমাইয়া বেগমকে আসামি করে গাইবান্ধা আমলী আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া ও ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করাসহ ন্যায়বিচার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী আল আমিনের বাবা জিয়াউল ইসলাম পারভেজ, শরিফুল ইসলাম শরিফ, আব্দুল হান্নান, সোহেল রানা, হাবিবুর রহমান ও লাভলু মিয়া প্রমুখ।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যারা টাকা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করছেন; আমার কাছে হিসাব আছে, তারা আমার কাছে সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা পাবেন। বাকি টাকা যারা উত্তোলনকারী, তারা নিয়ে দায়ভার আমার ওপর চাপাচ্ছেন।’