Image description

মহানবী (সা.)–কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাসের দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (মাদারীপুর-১) আসনের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। একই সঙ্গে তিনি নবী (স.) যারা শেষ নবী মানে না তাদের অমুসলিম ঘোষণা করতে আইন পাসের দাবি করেছেন।

 

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এ দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লাখ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাদের আওয়াজগুলো জাতীয় সংসদ থেকে আমরা যেন দিতে পারি।

সূরা আল-আহযাবের একাধিক আয়াত পাঠ করে হানজালা বলেন, আল্লাহর নবী (স.) হচ্ছে আমার ইমানের অংশ। তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কুরআর ঘোষণা দিয়েছে। নবী (স.) বলেছেন, আমি শেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী আসবে না। কিন্তু দু:খের সাথে বলতে হয়- বাংলাদেশে এমন একটি পার্ট রয়েছে। সেই পার্টের একাংশের মানুষ নবী (স.) অস্বীকার করে নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করে। এ বিষয়ে অনেকের ধারণা আছে, তারা জানে। এ আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক মুসলমানকে রাস্তায় শহীদ হতে হয়েছে। আন্দোলন করতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজও সেই আন্দোলন চলছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত সেটা পাইনি..। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আপনি বাংলাদেশে একটি ইতিহাস রচনা করে যবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবী (স.)-কে অস্বীকার করে তারা কোনোদিন মুসলমান থাকতে পারে না। এটা আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ থেকে ঘোষণা হবে সেটা আমরা চাই।

হানজালা বলেন, আমরা আমাদের নবীকে সবথেকে বেশি ভালোবাসি। যিনি আখেরি নবী। যাকে বলা হয়েছে ‘ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন’। কিন্তু আমরা বার বার দেখছি কিছুদিন পরপর কারা যেন কীভাবে এসে আল্লাহর নবীর শানে কটূক্তি করে। নবীকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদে রাস্তাঘাটে আন্দোলন করতে গিয়ে কত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।

বাংলাদেশে মুসলমানদের সংখ্যা অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইনে..। আমরা তো অন্য কিছু যাচ্ছি না। এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবী (স.) কটূক্তি করে তার কলিজা ছিঁড়ে যায়। রাজপথে নেমে যায়। আমি বলবো যারা নবীকে কটূক্তি করে নবীর নামে গালিগালাজ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড- এই আইনটিও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।

বক্তব্যকালে তিনি শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার করেন। তিনি বলেন, হাদি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিলে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন সুন্দর বাংলাদেশ করার। রাস্তার মাঝে সেই স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার হত্যার বিচার না হলে আমাদের মতো হানজালাদের নিরাপত্তা কেউ দিতে পারবে না।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হানজালা বলেন, আমরা একটি বিশাল কমিউনিটিকে বিলং করি। দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েছি। আমাদের ওই পাশে যারা আছেন তারা শুধু মনে করেন আমরা কেবল তাদের বিরোধিতার জন্য কথা বলি। বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকারি দল ভালো কাজ করলে বিরোধী দলের মঞ্চ থেকেও তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করবো না।

তিনি বলেন, সরকারি দলে যারা আছেন তাদের ধন্যবাদ জানাবো। আজকে আপনি যেখানে বসে আছেন তার মাথার ওপরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’- অবশ্যই এটা তাদের অবদান। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আপনার মাথার উপরে আবার তাকালে দেখি বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। এটা দেখলে আমাদের ভালো লাগে। এটা আমরা ফিরে পেয়েছি। সরকারি দলের প্রশংসা করতে হলে আমরা এভাবেই করবো। যখন তাদের প্রশংসা করার দরকার। আমরা দাঁড়িয়ে করব। তাদের কোনো ভুল থাকলে তাহলে এই বেঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে তার প্রতিবাদ করব। এটাই আমাদের কাজ।