চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালি ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় একটি চিত্রাহরিণ শিকারের পর মাংস কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে। এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে ওই এলাকার পাশেই অবস্থিত মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খালের এক পাড়ে একটি মায়াবী চিত্রাহরিণের পা চেপে ধরে রয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্য একজন দা দিয়ে কুপিয়ে হরিণটির গলা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। পাশে একটি কুকুর। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই তিন অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
হরিণ জবাইয়ের সময় কাছাকাছি স্থান থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি এ সময় অনেকটা ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন করেন, ‘ভিডিও কেন ধারণ করা হচ্ছে।’ পাল্টা জবাবে ভিডিও ধারণকারী এতে কী সমস্যা জানতে চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে এ ঘটনার সমালোচনা করেন নেটিজেনরা। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিও জানান তারা।
স্থানীরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে মিরসরাই উপজেলার পশ্চিমে উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালির আশ্রয়স্থল।
তবে এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড় হতে শুরু করে। এর ফলে বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি হারিয়ে যেতে থাকে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনও কিছু হরিণের অস্তিত্ব আছে। প্রায় সময় সেগুলো লোকালয়ে আসে। আর সেখানে যাওয়া লোকজন হরিণ শিকার করে। জবাই করা চিত্রাহরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকে এসেছে বলে ধারণা বন কর্মকর্তাদের।
এ বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, ১১ এপ্রিল তিনজন দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। যতটুকু জানা গেছে, ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করে।’