Image description

জ্বালানি সরবরাহ সহজ করতে ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি অ্যাপ চালু করেছিল সরকার। শুক্রবার চালু হওয়া অ্যাপটি ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ শনিবারই বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সেদিন বিআরটিএ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নির্দিষ্ট করে সমাধানের দিনক্ষণ না জানালেও ইঙ্গিত ছিল রবিবারের। তবে রবিবার জানা গেল আরেক তথ্য, নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নেই বিআরটিএ সার্ভারে।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান জানালেন, তারা এরই মধ্যে ‘নিরাপত্তা ছাড়পত্র’ পেয়েছেন। এখন সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সার্ভারে।

শুক্রবার প্রাথমিকভাবে ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে শুরু হয় জ্বালানি তেল সরবরাহ। শনিবার আরও পাঁচটি ফিলিং স্টেশন যুক্ত হয় ওই তালিকায়। কথা ছিল, রবিবার থেকে ওই সাত ফিলিং স্টেশনে শুধু ফুয়েল পাস অ্যাপের মাধ্যমেই সরবরাহ হবে জ্বালানি।

শনিবার বিআরটিএ চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমরের দাবি ছিল, তাদের সার্ভার বা সাইটের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। মূলত এটি চালুর পর এই সিস্টেমের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি। তারা এটি পরীক্ষা করার পর ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার পরই আবার উন্মুক্ত হবে সেবাটি।

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের আশ্বাস ছিল রবিবার থেকেই নিবন্ধন করতে পারবেন গ্রাহকরা। তবে এদিনও ছাড়ানো যায়নি ফুয়েল পাসের জট।

বিপিসির এক কর্মকর্তা তাদের সার্ভারের সমস্যার কথা স্বীকার করলেও জানালেন না বিস্তারিত কিছু। কবে নাগাদ নিবন্ধন চালু হবে- দিতে পারলেন না তেমন কোনো তথ্যও।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোয় শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল পাস অ্যাপ চালু করেছিল সরকার। বিপিসির উদ্যোগে তৈরি এ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি তেল নেওয়ার সুযোগ। এ অ্যাপ বিআরটিএ সার্ভারে যুক্ত।

ফলে নিবন্ধিত যানবাহনের সঠিক তথ্য যাচাই করে দেওয়া যাবে জ্বালানি। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারাও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে প্রিন্ট নিতে পারবেন কিউআর কোডটি। চালক তার কিউআর কোড স্ক্যান করে নিতে পারবেন বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি। পাশাপাশি দেখে নিতে পারবেন ব্যালান্স। ফিলিং স্টেশন মালিকরাও তাদের বরাদ্দ ‘এন্ট্রি’ দিয়ে করতে পারবেন জ্বালানি বিতরণ।

সারা দেশে প্রতিদিন কী পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ হচ্ছে, তাও রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে।