Image description

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থবিভাগ বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করেছে ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ উন্নীতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। এবার বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। ঘাটতি অর্থায়নে ঋণ-নির্ভরতা বড়ানোর হবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং চলমান বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান তৈরি করার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চারটি নতুন কর্মসূচি-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং খালকাটা কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে জুম প্ল্যাটফরমে অর্থমন্ত্রী বাজেট মনিটরিং ও কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ঐ বৈঠকের পরই অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এবারের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ঘাটতি মেটাতে বাড়বে ঋণ :চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের আদায় করার কথা ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উত্স থেকে আদায় ধরা হয়েছে আরো ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ১ লাখ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘাটতি বাজেটের বড় অংশ দেশি-বিদেশি উত্স থেকে ঋণ করে মেটানো হবে।

চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের কাছাকাছি উন্নীত হতে পারে। পরিমাণের দিক থেকে ঋণের অংশ দাঁড়াতে পারে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকায়।

নির্বাচনের আগে নতুন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণের সুদ মওকুফ, খাল খনন, গাছ লাগানো ইত্যাদি কাজ শুরু করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১৩ হাজার কোটি লাগবে বলে ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদিকে চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধ খাতে মোট ব্যয় ধরা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা আরো কিছুটা বাড়বে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর অংশবিশেষ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অর্থ বিভাগ নতুন বেতনকাঠামোর একটা অংশ বাস্তবায়ন করতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তা করছে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এটা বাড়িয়ে আড়াই লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা হতে পারে আগামী বাজেটে। এ জন্য বাড়তি বরাদ্দ লাগবে ২০ হাজার কোটি টাকা।