Image description

বাংলাদেশের প্রায় সোয়া কোটি নারী-পুরুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স আয় করে জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জনশক্তি রফতানি খাতে নানা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফ্লাইট বিপর্যয়ে লক্ষাধিক বিদেশগামী কর্মীর যাত্রায় ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিএমইটি থেকে বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুতে ধীরগতি। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মালয়েশিয়ার পক্ষে ছিলেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতো রমনন রামকৃষ্ণন। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যেমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন করে আশার আলো দেখা দিলো।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, উভয় দেশ একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং বিশ্বাসযোগ্য নিয়োগকারী সংস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈধ শ্রমবাজারের অনেক দরজা বন্ধ থাকায় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অগণিত বাংলাদেশি যুবক ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে পড়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। এতে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক পরিস্থিতিতে শ্রমবাজারের গতি ধরে রাখতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার বিকল্প সোর্স কান্ট্রিগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জনশক্তি রফতানি খাত হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে জোরালো উদ্যোগ নিচ্ছে। এমন উদ্যোগে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফর ঘিরে দেশটির বন্ধ শ্রমবাজারে নতুন আশার আলো দেখা দিচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর লেবার উইংগুলো তৎপর হলে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হতে পারে। অভিজ্ঞ মহল এ অভিমত ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়া সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বন্ধকৃত বাংলাদেশি শ্রমবাজার খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরালো করা সম্ভব হলে জনশক্তি রফতানি খাত সম্প্রসারণে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানসহ ইউরোপের দেশগুলোতে লাখ লাখ দক্ষ অভিবাসী কর্মীর চাহিদা রয়েছে। ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে লাখ লাখ অভিবাসী কর্মী চাহিদা দেখা দেবে। সে সব শ্রমবাজার ধরতেও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির দরুণ জনশক্তি রফতানিতে ভাটার টানা শুরু হয়েছে। বিএমইটির সূত্র জানায়, গত ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সউদীসহ বিভিন্ন দেশে ৯৫ হাজার ৯২ জন চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। গত ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ৬৫ হাজার ৬৩৪ জন কর্মী চাকরি লাভ করেছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ৪৪ হাজার ৬৫৮ জন চাকরি লাভ করেছেন।

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের দরুণ মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশের আকাশপথ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। অভিবাসী কর্মীদের স্বাভাবিক চলাচল বিঘিœত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সোয়া কোটি বাংলাদেশি কর্মীর রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়ু হলে জনশক্তি রফতানি খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প চিন্তাভাবনার ওপরও গুরুত্ব দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মতামত ব্যক্ত করেছে। তারা শ্রমবাজারের গতি স্বাভাবিক রাখা, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতি সচল এবং বন্ধ শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার ও ইউরোপসহ নতুন নতুন শ্রমবাজার চালুর দ্রুত বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে গত দেড় মাস ধরে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী লাখ লাখ অভিবাসী কর্মীর চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়। অনেক অভিবাসী কর্মী ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন। আবার অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে যাচ্ছে। প্রবাসে অনেকেই বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। আবদ্ধ জীবন-যাপনে প্রবাসী কর্মীরা নানা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়ু হলে জনশক্তি রফতানি ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। একাধিক জনশক্তি রফতানিকারক এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত দেড় মাসে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার বিদেশগামী কর্মীরা যথাসময়ে কর্মস্থলে যেতে না পারায় চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার ওমরাহযাত্রী দেশে এবং মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন। তারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। বিকল্প পথে সউদী আরবে যাতায়াতে এয়ারলাইন্সের ভাড়াও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত এক মাসে সাতটি দেশের আকশপথ বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের রুটের ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো বিদেশগমনেচ্ছু যাত্রী।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারো খোলা ও ব্যয় কমানোর উদোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে শ্রমবাজার খোলা ও ব্যয় কমানো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।

শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গত বুধবার মালয়েশিয়ায় যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর।

গতকাল বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং হাই কমিশনার। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অত্যন্ত সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং এর অব্যাহত অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষ শ্রম সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে এবং শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে। উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরো জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শ্রম অভিবাসন বিষয়ে বৈঠক প্রসঙ্গে দুই দেশ যৌথ প্রেস বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়Ñ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উভয় সরকার শ্রম অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তাদের যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে, যা বিদ্যমান নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে। উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।

আরো বলা হয়, উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানব পাচার-সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলা সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে প্রভাবিত করতে পারেÑ এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকা- মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

মদ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তার মুখেও এখনো রেমিট্যান্স প্রবাহে কোনো প্রভাব পড়েনি। মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ বা ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎÑ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে দুই হাজার ৫২৮ কোটি ১০ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।