হারানো মোবাইল উদ্ধার করেছে ঢাকার লালবাগ থানা পুলিশ। এরপর উদ্ধারকৃত মোবাইল ফিরিয়ে দিতে এটির মালিকের কাছে ‘খরচবাবদ’ অর্থ দাবি করা হয়। টাকা চাওয়া ওই পুলিশ সদস্য হলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সজিব হোসেন। তিনি ফোনের মালিককে বলেন, ‘দুই হাজার ৭৮০ টাকা খরচ হয়েছে, এরপর যেটা দেন।’
হারানো মোবাইল উদ্ধারে গত মার্চে লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৯০) করেন ভুক্তভোগী এক নারী শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে ৩৩ হাজার টাকায় অপো ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনটি কেনেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, জিডির পর বিষয়টি তদন্ত করে লালবাগ থানা পুলিশ। কিছুদিন পর দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই সজিব হোসাইন ফোন করেন। তিনি জানান, মোবাইলটি উদ্ধার হয়েছে এবং সেটি নিতে থানায় যেতে হবে। আজ (বৃহস্পতিবার) থানায় গেলে তিনি জানান, মোবাইল উদ্ধারে দুই হাজার ৭৮০ টাকা খরচ হয়েছে। এরপর আমি যা ভালো মনে করি। এই টাকা দিলে মোবাইল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
এ সংক্রান্ত আলাপের একটি অডিও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে বলতে শোনা যায়, মোবাইলটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিকবার যাতায়াত, কুরিয়ার ব্যয়সহ ২ হাজার ৭৮০ টাকা খরচ হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন এলাকায় পাওয়া গেলে খরচ আরও কম হতো। চারবার চেষ্টার পর হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়, যার কারণে খরচ বেড়েছে।
ওই অডিওতে প্রথমে ভুক্তভোগীকে একজন মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতে শোনা যায়। তবে পরে নিজেই সরাসরি টাকা দাবি করেন পুলিশ সদস্য। জানা যায়, মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি পুলিশকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে ভুক্তভোগীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিক নিয়ে এএসআই সজিব হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন ওই শিক্ষার্থী। তখন টাকার প্রসঙ্গ ছাড়াই তাকে মোবাইল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনলাইন থেকে জিডিটি ‘নিষ্পত্তি হয়েছে’ মর্মে পোস্টিং দেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, ‘মোবাইল পাওয়া গেছে শুনে খুব খুশি হয়েছি। বাংলাদেশে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে, পরিশ্রম করে নাগরিকদের জিনিস উদ্ধার করে ভেবে তাদের প্রতি ইতিবাচক ধারণা ছিল। কিন্তু টাকা চাওয়ার পর আরও খারাপ লাগে। আমি স্টুডেন্ট, টিউশনির টাকা দিয়ে কিস্তিতে মোবাইল কিনেছি। হারানোর পরেও কিস্তিতে আরেকটা মোবাইল কিনি। পুলিশের দায়িত্ব আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। সেটা তো দিতে পারেনি, উল্টো মোবাইল উদ্ধারের পর টাকা চাচ্ছে। সহায়তার আশায় থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের ঘটনার তদন্তে যথাযথ খরচ পান না পুলিশ সদস্যরা। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে রাখা, প্রয়োজনে সেটি উদ্ধারে যাওয়া অথবা কুরিয়ার করে জিডি হওয়া থানায় মোবাইল আনাসহ বিভিন্ন ধাপে অর্থ ব্যয় হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এসব খরচ তারা পান না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই হারানো, চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধারে আগ্রহী হন না অনেক পুলিশ সদস্য।