Image description

দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ১১টিই বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের। ২০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, যা শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ৬৫ শতাংশ। এটি শুধু শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের হিসাব। এর বাইরেও নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে হাজার হাজার কোটি লুটপাট করেছে এস আলম গ্রুপ। ওই সব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই খেলাপি। যদিও ওই সব প্রতিষ্ঠানের হিসাব এখানে আসেনি। গত সোমবার সংসদে এই শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ১১টি প্রতিষ্ঠানই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চট্টগ্রামভিত্তিক বিতর্কিত এই ব্যবসায়ী গ্রুপটির সঙ্গে জড়িত। তাদের ঋণের বড় অংশ নেয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে। এভাবে লাখ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট করায় অনেক ব্যাংক দেউলিয়াত্বের পথে। গ্রাহকরা ওই সব ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার টাকাও তুলতে পারছেন না।

এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দেশের অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। এর দায়ভার আজ জনগণের কাঁধে। এস আলমসহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাট-অনিয়মে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক আজ চাপে রয়েছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রায় পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। পরের তিন মাসে বা দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা তিন শতাংশে নেমে এসেছে। বিবিএসের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক ০৩ শতাংশ। তবে শঙ্কার বিষয় হলো গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সঙ্কটে দেশে দেশে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এতে ছোট-বড় দেশগুলোর অর্থনীতি শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশে এখন জ্বালানি মজুদ ও আমদানি-সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। দাম বাড়ানো হয়নি। তার পরও পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য বিশাল সারি দেখা যাচ্ছে। ব্যবস্থাপনা ঘাটতিতে প্রতিদিন মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

 মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে দেশের রফতানি কমে গেছে। যুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত ঢাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা প্রতিদিন কমছে। একই সঙ্গে আবাসন দেশের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত। প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি বিক্রিতে মন্দা দেখা দেয়ায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে আবাসন খাতজুড়ে। আবাসন খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিক। দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের এই খাতটি ২০২৩ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে প্রায় ৮ শতাংশ অবদান রেখেছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী আবাসন খাত অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হয়ে ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। সরকার এ খাতে বিশেষ নজর দিলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এছাড়া দেশের আর্থিক খাতকে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সংসদে আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অবশ্য শুধু ব্যাংক খাতই নয়: বিমা খাত, জমি দখল, লুটপাট ও হত্যার বাইরে নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্তিম সংকট তৈরি করেও জনগণকে জিম্মি করার অসংখ্য অভিযোগ আছে ‘দানব’ এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও আমলে নেয়নি সরকার। এভাবেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেশের অন্তত এক লাখ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিদেশে পাচার করেছে এস আলম গ্রুপ।

দেশের বর্তমান আর্থিক মন্দা থেকে রক্ষায় পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি অনিয়মকারী এস আলমসহ বড় বড় শিল্প গ্রুপের সব সম্পত্তি জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পাচারের টাকা উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন ইনকিলাবকে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে খুবই কঠোর বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থার যৌথ অনুসন্ধান চলমান। এছাড়া যেসব ব্যাংক থেকে এস আলমসহ বিভিন্ন ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ওই সব ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান। এজন্য বিদেশি আইনি সহায়তা ফার্মের পরামর্শও নেয়া হচ্ছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, দেশের সবচেয়ে আলোচিত ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত এস আলম গ্রুপ ও সকল ঋণখেলাপিদের অর্থ উদ্ধারে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, একটি পরিবার কীভাবে ব্যাংকিং খাতকে নিয়ন্ত্রণ করে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এস আলম পরিবার। তিনি বলেন, এজন্য ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকও দায়বদ্ধ। এছাড়া ওই সময়ে সরকার আইন সংশোধন করে এস আলমকে ব্যাংকগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে। তাই যারা এস আলমকে এই সুযোগ করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

সূত্রমতে, এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার সহযোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ ১৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনেক আগেই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনুসন্ধান শুরু করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ভেঙে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা নজিরবিহীনভাবে ৮টি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল ১৯৮৫ সালে আলম এস আলম গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আত্মীয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রুপটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী হয়ে ওঠে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের প্রভাব বিস্তার করে এস আলম গ্রুপ। ধীরে ধীরে দেশের শীর্ষ ব্যাংকটি আস্থা হারায় গ্রাহকদের কাছে। এভাবে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে দখল করেন একাধিক ব্যাংক, ভেঙে পড়ে সুশাসন। মন্দ ঋণ, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, তহবিল তছরুপ, ফান্ড ডাইভারশনসহ নানা ধরনের অনিয়মে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ব্যাংকগুলো।

অনিয়মে দেশের শীর্ষ ইসলামী ব্যাংক ধুকতে শুরু করে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে ব্যাংকটির তারল্য সঙ্কট নিয়ে ভাবতে হয়নি, সেই ব্যাংকটিকেই দুয়ারে ঘুরে বেড়াতে হয় তারল্য সংগ্রহে। এমনকি ব্যাংকটিতে থাকা বিদেশি বিনিয়োগও চলে যায়। এছাড়া এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময়ে ইসলামী ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশই এই গ্রুপের হাতে ছিল। একইভাবে তারা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদেও প্রভাব বিস্তার করে এভাবে লুটপাট করেন।

সূত্রমতে, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, কমার্স ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের প্রভাব বিস্তার করে দেদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে অদক্ষ-অপেশাদার লোকদের। আবার অনেককেই মাঠপর্যায় থেকে তুলে এনে নাটকীয় গতিতে পদোন্নতি দিয়ে বসানো হয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে। এভাবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও পেশাদারিত্ব ভেঙে ফেলা হয়।

তবে শুধু পরিষদের প্রভাব বা পদোন্নতি নয়: সবকিছু ছাপিয়ে ব্যাংকিংপাড়ায় আলোচনার নাম ছিল দেশের শীর্ষ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে এইচএসসি পাস আকিজ উদ্দিনকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বসানো। আকিজ উদ্দিন ছিল এস আলমের পিয়ন ও পরবর্তীতে পিএস। যাকে দিয়েই অনিয়ম-লুটপাট করে ব্যাংকিং খাতকে অস্থিতিশীল করা হয়।

তদন্ত সংস্থা সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, এস আলম পাচার করা অর্থে সিঙ্গাপুরে ২৪৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনে ক্যানালি লজিস্টিক প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়া ভুয়া নথি তৈরি, জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশে পণ্য আমদানি-রফতানি ও বিনিয়োগের উদ্দেশে নামে-বেনামে ছয়টি ব্যাংক থেকে ৯৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও জানায় ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

সূত্র জানায়, বিদেশে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান শেল কোম্পানি খুলে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১৮ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এস আলমসহ তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ছেলে আহসানুল আলম ও আশরাফুল আলমসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মানিলন্ডারিং আইন ও বিধি অনুযায়ী সিআইডি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জানা যায়, সাধারণত বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও গ্রুপটি কোনো নিয়মনীতি মানেনি। প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকা পাচার করার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছে। গত এক দশকে সিঙ্গাপুরে এস আলম অন্তত দুটি হোটেল, দুটি বাড়ি, একটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং অন্যান্য যে সম্পদ কিনেছেন সেখানেও বিভিন্ন উপায়ে কাগজপত্র থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানা যায়।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের এই তালিকা উপস্থাপন করেন, তবে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের মোট ঋণ ১৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন হাজার ২৬০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যার এক হাজার ৭২১ কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের। এস আলম ভেজিটেবল অয়েলের খেলাপি ঋণের পরিমাণ চার হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা, আর মোট ঋণ ছিল ১২ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। এই ঋণ নেয়া হয়েছে ইসলামী, জনতা, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে। এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, আর মোট ঋণ ছিল ১১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এই ঋণ নেয়া হয়েছে ইসলামী, জনতা ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস জনতা, ইসলামী, এক্সিম এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের মধ্যে তিন হাজার ৪২০ কোটি টাকা খেলাপি করেছে, যেখানে তাদের মোট ঋণ ছিল পাঁচ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকায় থাকা এস আলম গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সোনালী ট্রেডার্সের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানির দুই হাজার ১৬০ কোটি টাকা এবং ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজের ১ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা, যা গত বছরের মে পর্যন্ত হিসাব। চেমন ইস্পাত, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ এবং কর্ণফুলী ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডও এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। এস আলম গ্রুপের এই ১১টি প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ অন্তত ২২ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, যা শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ৬৫ শতাংশ।