Image description

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আরও একদফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে মার্চ মাসেই দুই দফা সমন্বয় করা হয়েছে জেট ফুয়েলের দাম। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান ভাড়া। বিইআরসি বলছে, ২৩শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল সময়ের আন্তর্জাতিক বাজার দর ও গড় প্ল্যাস রেট ধরে এপ্রিল মাসের জন্য নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম ঘোষণা করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে আবারো বিমান ভাড়া বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বিইআরসি ঘোষিত নতুন দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে লিটার প্রতি দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা। আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার করা হয়েছে। তাতে লিটারপ্রতি বেড়েছে ১৯ টাকার বেশি। ২৪শে মার্চ বিইআরসি অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করেছিল। তাতে লিটারপ্রতি দাম বেড়ে যায় ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ লিটারে বাড়ে ৭১ টাকার বেশি।

তার আগে ৮ই মার্চ বিইআরসি মার্চ মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করেছিল। আন্তর্জাতিক রুটে তখন ০ দশমিক ৬২ ডলার থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম মার্চের শুরুতে নির্ধারিত দামের তুলনায় ৮০ শতাংশ বাড়ে। আন্তর্জাতিক রুটেও বৃদ্ধির হার কাছাকাছি ছিল। সে তুলনায় এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ রুটে বাড়লো প্রায় ১২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক রুটেও প্রায় একই হারে বেড়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছিল বিইআরসি। ৭ই জানুয়ারি কমিশন অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার দাম ১০৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৬৮ সেন্ট থেকে ৬২ সেন্টে নামিয়ে আনে। তখন বিইআরসি বলেছিল, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।

জেট ফুয়েলের নতুন এই দাম অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার ব্যয় আরও বাড়াবে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা। মার্চের শেষদিকে বড় বৃদ্ধির পর দুই সপ্তাহ না যেতেই আবার নতুন সমন্বয় এলো। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথম দফা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর পর অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিটের মূল্য বাড়িয়েছিল বিভিন্ন এয়ারলাইন্স। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা তাদের গন্তব্যের ভাড়া বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে একক যাত্রায় ভাড়া বেড়েছে অন্তত ১২০০ টাকা করে। যশোর ও রাজশাহী রুটে একক যাত্রীর ভাড়া বেড়েছে এক হাজার টাকা করে। আন্তর্জাতিক রুটে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স অন্তত ২৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। ফের দাম বাড়ানোয় অভ্যন্তরীণ রুটে আবারো বিমান ভাড়া বাড়বে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ইউরোপ-আমেরিকার ফ্লাইটগুলো নিয়মিত রুটে যেতে পারছে না। ইসরাইল, ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশের আকাশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে যাতায়াত পথও দীর্ঘ হয়েছে। এতে বেড়েছে জ্বালানি খরচ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানির অতিরিক্ত দাম। তাই আন্তর্জাতিক রুটেও টিকিটের দাম বেড়েছে। টিকিটের মূল্য ভাড়ায় যাত্রীরা নিরুৎসায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন রুটে যাত্রী কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের লোকসান কমিয়ে আনতে অপেক্ষাকৃত কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। এতে দেশের আঞ্চলিক সংযোগ এবং পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।