Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে কোন দেশটি বেছে নেবেন, এ নিয়ে চলছে নানা মহলে কৌতূহল। ঈদুল আজহার পর তিনি দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো একটি দেশ সফর করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে। সেটি খুব সম্ভবত প্রতিবেশী ভারত হতে পারে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে ইতোমধ্যে পাকিস্তান, চীনসহ পৃথিবীর অনেক দেশই তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এদিকে ১৬ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপিসহ কয়েকজন নেতা চীন সফর করবেন।

ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফর করবেন দক্ষিণ এশিয়ায়। সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী সফর শুরু করতে পারেন ভুটান দিয়ে। এরপর সার্কভুক্ত দেশগুলো সফরের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, এমনও হতে পারে ভুটানের পরই তিনি ভারত সফরে যাবেন। কারণ হিসাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সেহেতু তিনি সংক্ষিপ্ত হলেও ভারত সফর করতে পারেন। তবে সেটি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপর। এখনও নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি কয়েকটি দেশের বিদেশি কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দেশ সফর করার আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

চলতি মাসের ১৬ তারিখ চীন সফরে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন নেতা ও সরকার দলীয় এমপি। প্রতিনিধিদলে থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

ওয়াশিংটনে আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বসন্তকালীন বৈঠক শেষে ঢাকায় আইএমএফের আরেকটি মিশন আসবে। সেই মিশনের প্রতিবেদন দেবে আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে জুনের পর্ষদে যেন কিস্তি ছাড়ের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে আইএমএফ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুনে না হলেও জুলাইয়ে বিষয়টি পর্ষদে তোলা হবে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান শুভেচ্ছা সফরে মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লি গেছেন। তিন দিনের এই সফরের সময় তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর পাশাপাশি তিনি দিল্লিতে অবস্থানের সময় ভারত সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

মূলত, ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের রাজধানীতে গেছেন। দিল্লিতে তার সফরসঙ্গী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফর করছেন।

শীর্ষনিউজ/