বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ঢাকা শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই সিটি করপোরেশনে বিভক্ত করার পেছনে কোনো জনকল্যাণমূলক চিন্তা ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে ঢাকার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিভাজন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।
ঢাকা সিটির বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. রিপন বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আয়তন গোটা বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের সমান। সেই শহরটি ম্যানেজ হয় মাত্র একজন মেয়র দিয়ে। সেখানে অসংখ্য মিউনিসিপাল হসপিটাল আছে, যা সিটির অধীনে চলে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট সব সিটির অধীনে। অথচ ঢাকা সিটিতে উত্তর-দক্ষিণ করার কী দরকার ছিল? আমার নতুন দাবি হবে—‘ওয়ান সিটি, ওয়ান ঢাকা, ওয়ান মেয়র’। শেখ হাসিনা ঢাকাকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করেছিলেন শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং সাদেক হোসেন খোকাকে বিদায় করার জন্য। খোকা ভাই এই বিভক্তির প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন। বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় গেলে ঢাকাকে পুনরায় একত্রীকরণ করবে। দুইটা সিটি হওয়ার কারণে নাগরিকরা শুধু বেশি বেশি মশা ছাড়া আর কিছুই পায়নি।
একটি আদর্শ সিটি করপোরেশনের প্রকৃত দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ কেবল মার্কেট বানানো নয়। মেয়রের কাজ হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। ঢাকা সিটিতে কিছু স্কুল আছে যেখানে সিটি করপোরেশনের সুইপারদের ছেলে-মেয়েরাও পড়তে যায় না, এত বেহাল দশা। আমি দায়িত্ব পেলে পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুল করব। মার্কেট বানানোর ধান্দা করলে হবে না।
ঢাকা শহরের জরাজীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুল করার মাধ্যমে আমি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই, যেখানে বিত্তবানদের সন্তানরাও পড়তে চাইবে। রাস্তা আর ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, না হলে ১৫-২০ বছরের মধ্যে এই শহর পরিত্যক্ত করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে এক পয়সা হারাম খাই না, আর কাউকে হারাম খেতেও দেব না। আমি দায়িত্ব পেলে পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুলে রূপান্তর করব এবং চাঁদাবাজ-দুর্বৃত্তদের হাত থেকে ঢাকাকে মুক্ত করব।