Image description
সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত

সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুনের (৩৫) মরদেহ ২১ দিন পর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। সকাল থেকে মামুনকে শেষবার দেখতে ভিড় জমায় স্বজন ও প্রতিবেশীরা। গতকাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নিহত মামুনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওইদিন দুপুর ১টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
গত ৮ই মার্চ সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মামুন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে আল খারিজ শহরের ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ই মার্চ তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন গফরগাঁও রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের বাসিন্দা শহীদ সওদাগরের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, জীবিকার সন্ধানে ৮ বছর আগে সৌদি আরব যান আল মামুন। সর্বশেষ ৫ বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। তিনি এক ছেলে সন্তানের জনক। নিহত মামুনের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম শারমীন। তিনি মাস্টার্স পাস। এলাকাবাসীর দাবি মামুনের স্ত্রীকে যেন একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় সরকার।

নিহত মামুনের মা শাহিদা বেগম ছেলেকে হারিয়ে ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরতে আবারো বলছেন আমার ছেলেকে তোমরা আইনা দেও। আমার ছেলে দেশে নতুন বাড়ি করবো বলেছিলেন। এখন কে বাড়ি করবো, আমার ছেলে তো কবরের বাড়িতে চলে গেল। মামুনের বাবা শহীদ সওদাগর বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকে। ঈদের পরে বাড়িতে এসে নতুন বাড়ি করার কথা ছিল। কিন্তু আমার ছেলের বাড়ি করা হলে না। আমার ছেলে ফিরলো লাশ হয়ে।