Image description

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ দুই কমিশনার পদত্যাগ করার পর থেকে নতুন কমিশন গঠিত না হওয়ায় এর সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আইন অনুযায়ী কমিশন ভেঙে যাওয়ার পর দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একাধিক আইনজীবী জানান, নতুন মামলা গ্রহণ, অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অনুমোদনও দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে চলমান হাজার হাজার মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম থমকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন নেতৃত্বের         অপেক্ষায় থাকলেও অনিশ্চয়তা কাটছে না। কমিশন না থাকায় নতুন তদন্ত, অনুসন্ধান অনুমোদন বা চার্জশিট দাখিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যদিও আগে অনুমোদিত কিছু তদন্ত সীমিত পরিসরে চলমান আছে, তবে নতুন বড় কোনো দুর্নীতির মামলার অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ সুযোগে দুর্নীতিবাজরা তাদের অবৈধ সম্পদ গোপনে স্থানান্তর, বিক্রি কিংবা বিদেশে পাচার করে দিতে পারে। এতে দেশের দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, সরকারের নিশ্চয়ই এ বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন অচলাবস্থা চলতে পারে না-এমনটাই তাদের প্রত্যাশা। এদিকে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে কারা আসছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের সাবেক বিচারক ও সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. মোতাহার হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছিল। তবে এখনো পর্যন্ত নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি সক্রিয় না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

কমিশনের অনুপস্থিতির কারণে বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে কোন কোন কাজ আটকে আছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম কতটুকু ব্যাহত হচ্ছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখন শুধুমাত্র আমাদের রুটিন কার্যক্রমগুলো চলছে। আর আগের যেগুলো সিদ্ধান্ত হয়ে আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন করে যদি কিছু আসে তাহলে তা নতুন কমিশন আসার পর সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হলে দুদকের কার্যক্রম পুনরায় গতি পাবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।