Image description

যশোরের মণিরামপুরে ত্রাণ দেওয়ার জন্য নেওয়া সরকারি বরাদ্দের দুই হাজার কেজি (২ টন) চাল বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা। দুটি মাদ্রাসার নামে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে এসব চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সুপারিশ করা তালিকায় ‘বাকোশপোল বালক-বালিকা এতিমখানা’ ও ‘বাকোশপোল হাফিজিখানা’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়। ইউএনও কার্যালয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন উপজেলার দেবিদাসপুরের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোদাচ্ছের গাজী।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ২০২৬ সালে জিআরের সাত টন চাল মনিরামপুরের সাতটি প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি কয়েক দিন অসুস্থ ছিলাম। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে না জানিয়ে অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন তালিকাটি জেলায় পাঠিয়েছেন।

 

অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন বলেন, ইউএনওর দপ্তরে আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে আবেদন তাদের দপ্তরে পাঠানো হয়। পিআইও অফিসে না থাকায় সময় স্বল্পতার কারণে আবেদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে ইউএনওর স্বাক্ষরিত সুপারিশের তালিকা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়।

 

 

বিষয়টি নিয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় মণিরামপুরের ইউএনও সম্রাট হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—যে দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, ওই দুই নামে এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। মূলত ‘বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমি মাদ্রাসা’ এবং ‘বাকোশপোল এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রারাসার’ নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জালিয়াতি করা হয়।
মোদাচ্ছের গাজী চাল উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পরিচিত একজনের মাধ্যমে আবেদন করে দুই টন চাল পেয়েছি। সেই চাল বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছি।’ তবে তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসা প্রধানদের বরাদ্দ বুঝিয়ে দিয়েছেন।

 

জানতে চাইলে বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা প্রধান মো. আব্দুল্লাহ জানান, তাকে অফিসে নিয়ে কৌশলে কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। পরে চাল বরাদ্দ হলে তাকে চাল না দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোদাচ্ছের, যা শিক্ষক ফেরত দেন।

 

এমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসার প্রধান মফিজুর রহমান জানান, মোদাচ্ছের তাদের কমিটির কেউ নন। অথচ তাকে সভাপতি দেখিয়ে চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, জেনারেল রিলিফ (জিআর) চাল বরাদ্দের জন্য উপজেলা থেকে ইউএনও স্বাক্ষরিত তালিকা জেলায় পাঠানো হয়। সেই তালিকার ভিত্তিতে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউএনও বা পিআইও দপ্তরের। মনিরামপুরের বাকোশপোল এলাকায় দুটি অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বরাদ্দের বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মণিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, মোদাচ্ছের গাজী বিএনপির রাজনীতি করেন। চাল আত্মসাতের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।