Image description

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সেই রাতে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় এগিয়ে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক চোখের দৃষ্টি হারান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী। দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও পুরোপুরি সুস্থতা না ফেরায় এখন অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তার। উন্নত চিকিৎসার আশায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহায়তা কামনা করেছেন।

 

২০২৪ সালের ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলির স্প্লিন্টার ডান চোখের রেটিনা ভেদ করে চোখের গভীরে প্রবেশ করায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টি হারান। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরদিন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারসহ এক মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা নিয়েও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাননি। পরবর্তীতে দেশীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে যান।

 

জানা গেছে, থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত তিনটি অস্ত্রোপচার করা হলেও চোখের গভীরে থাকা স্প্লিন্টার অপসারণ সম্ভব হয়নি। তবে রেটিনা আংশিকভাবে জোড়া লাগানো সম্ভব হয়। প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরেন তিনি। কিছুটা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেও বর্তমানে তা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।

 

অধ্যাপক এলাহী বলেন, চিকিৎসকরা আমাকে জানিয়েছে ডান চোখের পাশাপাশি আমার বাম চোখেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে এক চোখের সীমিত দৃষ্টিশক্তি নিয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য পুনরায় থাইল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে আমার। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন অংশে এখনও প্রায় ৭০টির মতো স্প্লিন্টার বহন করছেন বলে তিনি জানান।

 
 

 

সবশেষে তিনি আরও বলেন, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারেক রহমান লন্ডন থেকে ড্যাব নেতাকে পাঠিয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছিলেন ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চয়ই বিষয়টি অবগত আছেন এবং আমি সরকারি সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পুনরায় থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে যেতে আগ্রহী। আশা করি তিনি আমার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।