Image description

সময় মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নির্ধারিত সময়ের পর নামাজ পড়লে সেটি কাজা হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)

 

নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়কারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। তারা আল্লাহর প্রিয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (র.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, ‘যথাসময়ে নামাজ আদায় করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্ধারিত সময় আছে। এর ভেতরই নামাজ আদায় করতে হবে। এশার নামাজ শুরু হয় সাধারণত সূর্যাস্তের ঘণ্টাখানেক পর। এরপর থেকে সুবহে সাদিক (ফজর নামাজের সময় হওয়া) পর্যন্ত এশার নামাজ পড়া যায়। তবে আলেমরা শেষ রাতে এশার নামাজ পড়াকে মাকরুহ বলেছেন। তবে নামাজ পড়লে হয়ে যাবে। সুতরাং রাত ১২টার পর এশার নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যাবে।

 

হানাফি মাজহাবের আলেমদের মতে, এশার নামাজ তিনভাগে বিভক্ত—এক. উত্তম সময়, দুই. জায়েজ সময় ও তিন. অনুত্তম বা মাকরুহ সময়।

 

সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যত ঘণ্টা হয়, সেটাকে ভাগ করে প্রথম এক তৃতীয়াংশের শেষের দিকে এশার নামাজ আদায় করা উত্তম। তবে এক তৃতীয়াংশের শেষের দিকে নামাজ পড়লে যদি একাকী নামাজ পড়তে হয়, তাহলে একাকী নামাজ না পড়ে জামাতে নামাজ পড়তে হবে। এক তৃতীয়াংশ থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেরি করে এশার নামাজ পড়া জায়েজ আছে। মধ্যরাত ১২টাও হতে পারে। কোনো ঋতুতে আগে-পরে হতে পারে। মধ্যরাত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়ের ভেতর এশার নামাজ পড়া অনুত্তম বা মাকরুহ। বিশেষ কারণে কেউ যদি মধ্যরাত থেকে সুবহে সাদিকের সময়ের মধ্যে এশার নামাজ পড়েন, তাহলে তার নামাজ হয়ে যাবে। এটা অনুত্তম বলা যাবে না। কারণ, তিনি সমস্যয় পড়ে করছেন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মাকরুহের সময় এশার নামাজ পড়া উচিত নয়।

 

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কেউ যদি বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অলসতা করে মধ্যরাতের পর এশার নামাজ পড়েন বা শেষ তৃতীয়াংশের ভেতর পড়েন, সে ক্ষেত্রে অনুত্তম বা মাকরুহ হবে। তবে তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। মাগরিবের নামাজের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে ফজর নামাজের সময় হওয়া পর্যন্ত এশার নামাজ পড়া যায়।’