সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিন দিনে তাকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
হৃদয় হাসান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল মজিদ এ নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ওই দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ করতে অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমির হামজা বিভিন্ন জনসভায় প্রকাশ্যে দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তাকে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা দেন, তাকে পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তিনি জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করবেন না।
তার এই বক্তব্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৭ মার্চ নোটিশ প্রদানকারী বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে, তখন এ ধরনের বড় অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখা সমীচীন নয়। রাষ্ট্রীয় ও শরীয়াহ আইন অনুযায়ী ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই সমান অপরাধী। বিপুল অঙ্কের এই ঘুষের প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং তাদের আইনের হাতে তুলে না দেওয়া মূলত অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, আমির হামজা কেবল নিজেকে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যেই ঘুষ প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি প্রচার করেছেন কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে সহায়তা এবং কুষ্টিয়াবাসীর কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পালনে ব্যর্থতার দায়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
নোটিশের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।