Image description

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার বদরপুরে চলমান ১০৭তম হযরত শাহ সোলায়মান লেংটার মেলাকে ঘিরে মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার চরম অভিযোগ উঠেছে। মেলা ঘিরে বসেছে শতাধিক গাঁজার দোকান। দিনের আলোয় চলছে মাদক বিক্রি ও সেবন। আর রাত নামলেই মেলার বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেংটার মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশে পুকুরপাড় ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজার দোকান বসিয়েছে পাগল ও ফকির পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা। মেলার আশপাশসহ তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাগম। মেলার প্রথম দিন মঙ্গলবার বিকেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালায় জুয়াড়ি ও মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই মেলাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়ম হলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। এবারের মেলায় জনসমাগম এতটাই বেশি যে পুরো এলাকা কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে কাজ করছে না, ফলে যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা।

 

পুকুরপাড়ে বসা একাধিক ফকিররা বলেন, আমরা নিজেরা সেবন করি, তবে বিক্রি করি না। পুলিশের কারণে আগের মতো খোলামেলাভাবে বসা যায় না, সবসময় ভয়ে থাকতে হয়।

 

কুষ্টিয়া থেকে থেকে আসা মোকাব্বের আলী, জয়নব বেগম, দিলরুবা আক্তার, মনজ্জুরুল হক ফকির বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই এখানে আসি। লেংটা বাবার দরবারে এসে জিকির-আসকার করি, গান-বাজনা করি।’

 

 

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা। ছবি : এশিয়া পোস্ট
প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

 

 

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা নেয়ামত উল্ল্যা নামে এক আশেকান বলেন, ‘এই মেলা আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। আমরা মানত নিয়ে আসি। তবে কিছু লোকের কারণে পরিবেশ খারাপ হয়, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

 

কুমিল্লা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম এক ভক্ত বলেন, ‘আমরা এখানে শান্তির জন্য আসি। কিন্তু মাদক আর জুয়ার কারণে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।’

 

শরীয়তপুর থেকে আসা গাফফার হোসেন ফকির বলেন, ‘এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। তবে যেগুলো খারাপ কাজ হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করলে মেলার পরিবেশ আরও ভালো থাকবে।’

 

স্থানীয়রা বলছেন, ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে যদি মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা যায়, তাহলে এর সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পোশাকধারী পুলিশসহ সিভিল টিম কাজ করছে। মাদক ও জুয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’