আট বছর আগে ঢাকার ইন্দিরা রোডের এক বাসার কেয়ারটেকারকে খুনের দায়ে মো. কাজল নামে এক ব্যক্তিকে প্রাণদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ফারুকুল।
মামলায় অভিযোগে বলা হয়, কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দরিচর গ্রামের জুলহাস মিয়া ঢাকার ইন্দিরা রোডের ২৫/বি নম্বর বাসায় ৩০ বছর ধরে কেয়ার টেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি সিমেন্টের দোকানের সামনে তার কাছে ৫ টাকা চান আসামি কাজল।
টাকা দিতে দেরি হওয়ায় কাজল তার হাতে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়া জুলহাসকে আঘাত করেন। গুরুতর আঘাত পেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন জুলহাস। স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সাইফুল ওইদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কাজলকে। পরদিন তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ৯ জুন কাজলকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. সুজানুল ইসলাম।
২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের জবানবন্দি শোনে আদালত। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত কাজলকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাজল নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানার জারিয়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তার স্থায়ী কোনো পেশা ছিল না।
শীর্ষনিউজ