Image description

কুড়িগ্রামে দিনে দিনে জ্বালানি তেলের সংকট বেড়েই চলেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বন্ধ হতে বসেছে ঘাটের নৌকা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে জেলে পরিবারগুলো। নৌকার ইঞ্জিন চালানোর ডিজেল না পেয়ে নদীতে নামতে পারছেন না তারা। কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে ডিজেল সংগ্রহ করলেও তা দিয়ে পোষাচ্ছে না। ফলে পরিবারের খাবার জোটানো মুশকিল হয়ে পড়েছে পরিবারগুলোর।

 

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন জেলেরা। পরে সঠিক মূল্যে চাহিদামতো তেল পাবেন বলে আশ্বাস দেন ইউএনও। পরে ফিরে যান জেলেরা।

 

জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, ডিলারদের কাছে তেল থাকলেও তারা বলছেন নাই। অন্যদিকে লিটার প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি দিলেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।

 

জেলে বেলাল হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে নদীতে নৌকা ভাসাতে পারছি না। তেল নাই, শ্যালো চলে না। আমরা তো মাছ না মারতে পারলে ভাত পাই না।

 

 

জেলে আশরাফ বলেন, আমাদের তেমন টাকা জমানো থাকে না। যেটুকু জমানো ছিল, তা-ও শেষ। এখন তেল কিনতে হচ্ছে ধারদেনা করে। সে তেলও নাই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন না খেয়ে থাকা লাগবে। তারপরও আমরা টাকা দেব, কিন্তু তেল চাই।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিলাদের মাধ্যমে তেল পর্যাপ্ত পরিমাণ আসলেও তা নিমিশে নাই হয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েক দিন ধরে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কৃষিকাজে ডিজেলের চাহিদা কিছুটা কমেছে। শুধু চরাঞ্চলে এখন সেচ চলছে। কিন্তু সংকট বেড়েছে ডিজেলচালিত যানবাহন, নৌকাসহ জেলেদের।

 

রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১নং ওয়ার্ডের সদস্য রোকুনুজ্জামান স্বপন বলেন, আমার ওয়ার্ডেই প্রায় ৩০০ জেলে পরিবার, এর মধ্যে দেড় শতাধিক জেলে ডিজেলচালিত নৌকা চলিয়ে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ডিজেলের সংকট ও চড়া মূল্যে কিনতে না পারায় তারা পরিবার নিয়ে বিপদে পড়েছেন।

 

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের লোকজন জোড়গাছ থেকে তেল নিচ্ছে, তবে ডিজেল প্রতি লিটার ১২০ টাকা দরে।

 

যদিও তেলের সংকট নেই দাবি চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের। তিনি বলেন, আমার কাছে সকল তথ্য আছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চড়া মূল্যে তেল বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।