অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইন্টেরিম গভমেন্ট, অস্থায়ী গভমেন্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো মৌলিক কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। তারা কীভাবে একটা অবৈধ আদেশ জারি করে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাননীয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে তখন কথা বলেছিলাম, যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনি কি আদেশ জারি করতে পারেন? বলেন, আমি তো পারি না, কিন্তু আমাকে পারাচ্ছে। এখন রাজহংসকে জোরপূর্বক স্বর্ণের ডিম পাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনা। যা-ই হোক এখন সেটা অবৈধ ডিম্ব হয়েছে।’
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল উদ্ধৃত করে গত বছর জারি করা 'সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫'-এর আইনি অসারতা ব্যাখ্যা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আর্টিকেল ৭২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন। উপদেষ্টা হিসেবে যখন শপথ নিয়েছেন তখন সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি ভালো ছিলেন। আদেশটা বৈধ আইন না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনও এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।’